শ্রমিকের অর্থনৈতিক উন্নতি মানেই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং তা প্রকারান্তরে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরির লড়াই কেবল কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একার লড়াই নয়; এটি মূলত একটি বৈষম্যহীন ও ভারসাম্যপূর্ণ জাতীয় অর্থনীতি গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রাম।
সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে চলমান শ্রমিক আন্দোলন ও ন্যূনতম মজুরির দাবি প্রসঙ্গে এসব কথা তুলে ধরেন তিনি।
দেশের বেতন কাঠামোর বৈষম্য ও মানসিকতার সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করার পরও বহু তরুণকে মাত্র ১৫ হাজার টাকা বেতনে কাজ করতে বাধ্য হতে হচ্ছে। ফলে পোশাক শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবি শুনলে অনেকের কাছেই তা অবাস্তব বা ‘আকাশকুসুম কল্পনা’ বলে মনে হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক ৩০ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণের দাবিতে যে ন্যায্য আন্দোলন চলছে, তাতে দেশের শিক্ষিত, সচেতন ও পেশাজীবী শ্রেণির মানুষের নিঃশর্ত ও জোরালো সমর্থন জানানো প্রয়োজন।
অর্থনীতির মৌলিক সূত্রের ব্যাখ্যা দিয়ে এনসিপির এই নেতা জানান, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়া মানে কেবল একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত আয় বৃদ্ধি নয়; এর বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাব পুরো অর্থনীতির ওপর পড়ে। শ্রমিকের ক্রয়ক্ষমতা বাড়লে ভোগ্যপণ্যের বাজারে স্বাভাবিক চাহিদা বৃদ্ধি পায়, যার ফলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ঘটে এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চারিত হয়।
স্ট্যাটাসের শেষে তিনি সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “মনে রাখতে হবে, শ্রমিকের অর্থনৈতিক উন্নতি মানেই দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি। আর দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি মানেই আপনার-আমার জীবনমানের উন্নতি। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরির লড়াই একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ার লড়াই।”
মন্তব্যসমূহ