আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যকার সম্পর্কে শীতলতার আভাস মিলছে। গত শনিবার অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি এই রাজনৈতিক দূরত্বের আলোচনাকে নতুন করে সামনে এনেছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একসঙ্গে অংশ নেওয়া এই দুই দল রাজপথে একযোগে কর্মসূচি পালন করলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নিজেদের অবস্থান দৃশ্যমান করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ঢাকার দুই সিটিতে পাল্টাপাল্টি প্রার্থী ঘোষণা করায় বিরোধটি স্পষ্ট রূপ নিয়েছে। এনসিপির পক্ষ থেকে ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত উত্তরে দলের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে ডাকসুর সাবেক ভিপি আবু সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। এনসিপি অন্তত একটি সিটিতে জোটগত সমর্থন চাইলেও জামায়াত কোনোটিতেই ছাড় দিতে রাজি নয়।
এই মতবিরোধের মধ্যেই শনিবার সকালে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে শুরু হওয়া লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম কিংবা সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে দেখা যায়নি। এর আগের দুটি লংমার্চে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের সরব উপস্থিতি থাকলেও এবার অংশগ্রহণ ছিল বেশ সীমিত। তবে লংমার্চের বহরে পরবর্তীতে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব এবং রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ যোগ দেন।
এর আগের দিন শুক্রবার শাহবাগে আয়োজিত এক সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক শক্তি তুলে ধরার ইঙ্গিত দেন। ওই সমাবেশে আসিফ মাহমুদ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াতের আচরণের সমালোচনা করে আপসকামী রাজনীতির প্রশ্ন তোলেন। পরবর্তীতে যশোরের পথসভায় হাসনাত আব্দুল্লাহও মন্তব্য করেন যে,
একদিকে কারচুপির অভিযোগ তোলা এবং অন্যদিকে মিষ্টিমুখ করা বিরোধী দলের কাজ হতে পারে না। এর পাল্টা জবাবে কুষ্টিয়ার সমাপনী সমাবেশে সাদিক কায়েম ছাত্র উপদেষ্টাদের অতীত ভূমিকা নিয়ে কথা তোলেন এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রশিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামও বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন।এনসিপির শীর্ষ নেতারা অবশ্য এই দূরত্বকে জোট ভাঙার পূর্বাভাস হিসেবে মানতে নারাজ। দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব সারজিস আলম ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ জানান, দলীয় ব্যস্ততা ও সমন্বয় সভার কারণেই শীর্ষ নেতারা সকালে অংশ নিতে পারেননি; জোট ছাড়ার কোনো বিষয় এখানে নেই।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, ১১ দলীয় ঐক্য সম্পূর্ণ অটুট রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলগুলো এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও রাজপথের যৌথ আন্দোলন ও ঐক্যে কোনো ফাটল ধরেনি।

মন্তব্যসমূহ