জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। পাটওয়ারী ভবিষ্যতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলে দেশে ছাগল ও ল্যাপটপ চুরির ঘটনা আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাশেদ খাঁন এসব কথা বলেন।
এ সময় এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ, আর্থিক সুবিধা নেওয়া এবং শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীলতা তৈরির অভিযোগও তোলেন তিনি।
রাশেদ খাঁনের দাবি, ছাত্ররাজনীতিতে থাকার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ ছিল। জাতীয় রাজনীতিতে আসার পর তাঁর বিরুদ্ধে ছাগল চুরির অভিযোগও উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এই অভিযোগগুলোর প্রসঙ্গ টেনে পাটওয়ারীর রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাশেদ।
তিনি কটাক্ষ করে বলেন, পাটওয়ারী যদি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হন, তাহলে দেশে ছাগল ও ল্যাপটপ চুরির ঘটনা আরও বেড়ে যাবে।
এনসিপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও তোলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী।
তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগের নেতাদের ভয় দেখিয়ে তাঁদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা আদায় করছে এনসিপি।
রাশেদ অভিযোগ করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও দলটির কিছু নেতাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন।
পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতাদের দেওয়া গাড়ি ও অর্থ ব্যবহার করার অভিযোগও করেন তিনি।
রাশেদের দাবি, জামায়াত ও এনসিপির আওয়ামী লীগবিরোধী বক্তব্যের পেছনেও আর্থিক সহযোগিতা ও অনুদান অব্যাহত রাখার চাপ তৈরির উদ্দেশ্য রয়েছে।
এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল আয়োজিত একটি সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রাশেদ খাঁন।
পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা এবং তাঁকে অসম্মান করার অভিযোগের প্রতিবাদে ওই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সেখানে সাম্প্রতিক শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাশেদ।
তাঁর অভিযোগ, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঢুকে সহিংসতা চালিয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াত রাজনৈতিকভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে।
রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াতের একটি লংমার্চ কর্মসূচি থেকে সরকারের কার্যক্রম ভেঙে দেওয়ার বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল।
এরপর শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এসব ঘটনার সঙ্গে জামায়াত আমিরের বক্তব্যের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন রাশেদ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের মাধ্যমে সহিংসতায় উসকানি দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
পাশাপাশি উসকানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন।
অনুষ্ঠানে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গও তোলেন রাশেদ খাঁন।
মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অবস্থানের ইতিহাস থাকা একটি দল বর্তমানে দেশের প্রধান বিরোধী শক্তির অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে সমালোচনা করেন তিনি।
মন্তব্যসমূহ