যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে ওয়াশিংটনকেই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসনের প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব পদক্ষেপকে বেশি গুরুত্ব দেবে তেহরান।
সোমবার (২ নভেম্বর) নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেন, গত দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং বিভিন্ন সময় আলোচনার প্রক্রিয়ায় বাধা তৈরি করেছে ওয়াশিংটন।
তিনি বলেন, ‘বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। ইরানের দাবিগুলো স্পষ্ট ও যৌক্তিক।’
বাঘাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ইরানের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের দাবিগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তেহরান শুধু মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে কোনো চুক্তিতে যেতে রাজি নয় বলেও জানান তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং তেহরানের দাবিগুলো পূরণ না হলে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সম্ভব নয়।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং সেখানে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টিও এসব শর্তের সঙ্গে যুক্ত বলে জানান তিনি।
ইরানের অবস্থান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আগে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে প্রণালিতে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা এবং আলোচনা পুনরায় শুরু করার পথ তৈরি হতে পারে।
বাঘাই জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত নিরসনের জন্য ইরান আগে যে সাত ধাপের পরিকল্পনা দিয়েছিল, সেটিই এখনো পরোক্ষ আলোচনার ভিত্তি।
তবে পরিকল্পনাটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সংক্ষিপ্ত করেছে তেহরান।
তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় শর্ত মেনে নিলে সংশোধিত পরিকল্পনাটি মাত্র দুই দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
ইরানের এই উদ্যোগকে কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি দেশটির সদিচ্ছার প্রকাশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে দুই দিনের সময়সীমা কোনো চূড়ান্ত চুক্তির ঘোষিত তারিখ নয়। এটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সময়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান চলছে।
ইরানের বিদ্যমান প্রস্তাব নিয়ে আগেও আলোচনা হয়েছে। ওয়াশিংটনের বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়াও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের কাছে পৌঁছেছে।
তবে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পাওয়া বার্তা বা প্রস্তাবই নতুন কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরুর প্রমাণ নয় বলে জানান বাঘাই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের আগের পরিকল্পনাই আলোচনার ভিত্তি হিসেবে বহাল রয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বিরোধে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
ওয়াশিংটনের নৌ অবরোধ এবং প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের প্রশ্নে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য এখনো রয়েছে।
ইসমাইল বাঘাই বলেন, তেহরানের দাবিগুলো পূরণ করা হলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এসব শর্ত মেনে নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের ওপর।
সূত্র : রয়টার্স।
মন্তব্যসমূহ