ঢাকা    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন ইমরান খান

বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন ইমরান খান
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। এরপর তাঁকে ভারত ছাড়ার নির্দেশসংক্রান্ত নোটিশের কার্যকারিতা আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন বোম্বে হাইকোর্ট।

সোমবার (২ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি মহেশ চন্দ্র ত্রিপাঠি ও বিচারপতি অদ্বৈত শেঠনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হয়।

ইমরান খান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং ভারতের ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডধারী। এ পরিচয়ের কারণে তাঁর রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নিয়ে শুনানিতে প্রশ্ন তোলেন আদালত।

বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ ছিল, ভারতীয় নাগরিক ও ওসিআই কার্ডধারী ব্যক্তির অধিকার এক নয়।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় ইমরান খান সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত নন। সে ক্ষেত্রে কেন তিনি ওই বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

শুনানিতে আদালত মন্তব্য করেন, ওসিআই কার্ডধারী হিসেবে ইমরান খানকে ভারতীয় নাগরিকের সমপর্যায়ে বিবেচনা করা যায় না।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইমরান খানকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে অথবা হলফনামার মাধ্যমে অনুশোচনা প্রকাশ করতে বলেন আদালত।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার অঙ্গীকার জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরে ইমরান খানের আইনজীবী ভেঙ্কটেশ ধোন্দ আদালতে তাঁর পক্ষ থেকে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার অঙ্গীকারনামা জমা দেন।

আদালত তা বিবেচনায় নিয়ে ভারত ছাড়ার নোটিশের ওপর আগের স্থগিতাদেশ বহাল রাখেন।

গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে আয়োজিত ওই কর্মসূচিস্থল থেকে ইমরান খানকে আটক করে মুম্বাই পুলিশ।

পরে বিজেপি নেতা কিরীট সোমাইয়া অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হয়েও বিক্ষোভে উপস্থিত থেকে ইমরান খান ওসিআই কার্ডের শর্ত ও অভিবাসনসংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘন করেছেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ অক্টোবর ভারতের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) অভিনেতাকে দেশ ছাড়ার নোটিশ দেয়।

নোটিশে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে তাঁকে ভারত ত্যাগ করতে বলা হয়।

এফআরআরওর নির্দেশের বিরুদ্ধে বোম্বে হাইকোর্টে আবেদন করেন ইমরান খান।

তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, অভিনেতা বিক্ষোভ সংগঠিত করেননি এবং তাঁকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

গত ২৭ অক্টোবর আদালত প্রথমে নোটিশের কার্যকারিতা ২ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখেন।

সোমবারের শুনানিতে আদালত বলেন, দীর্ঘদিন ভারতে বসবাসকারী কোনো ব্যক্তিকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার আগে তাঁর বক্তব্য জানানোর সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

আদালত ইমরান খানকে এফআরআরওর নোটিশের জবাব দেওয়ার সুযোগ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশ ছাড়ার নোটিশের ওপর স্থগিতাদেশ অব্যাহত রেখেছেন।

মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ৭ ডিসেম্বর।

তত দিন নোটিশটি কার্যকর না হওয়ায় আপাতত ভারতে অবস্থান করতে পারবেন ইমরান খান। তবে তাঁকে দেওয়া দেশ ছাড়ার নোটিশ পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি।

ওসিআই কার্ডধারীরা ভারতে দীর্ঘমেয়াদে বসবাস ও যাতায়াতের সুবিধা পান। তবে তাঁরা ভারতীয় নাগরিক নন। ভোট দেওয়া বা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকারও তাঁদের নেই।

ভারতের সংবিধানের ১৯ অনুচ্ছেদের অধীনে বাক্‌স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মৌলিক অধিকার ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত।

অন্যদিকে ওসিআই কার্ডের বিধানে রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নিতে আলাদা অনুমতির বাধ্যবাধকতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। ফলে ইমরান খানের উপস্থিতি অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, সে প্রশ্নের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

সূত্র : দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ট্যাগ : বলিউড ইমরান খান

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন ইমরান খান

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। এরপর তাঁকে ভারত ছাড়ার নির্দেশসংক্রান্ত নোটিশের কার্যকারিতা আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন বোম্বে হাইকোর্ট।

সোমবার (২ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি মহেশ চন্দ্র ত্রিপাঠি ও বিচারপতি অদ্বৈত শেঠনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হয়।

ইমরান খান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং ভারতের ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডধারী। এ পরিচয়ের কারণে তাঁর রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নিয়ে শুনানিতে প্রশ্ন তোলেন আদালত।

বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ ছিল, ভারতীয় নাগরিক ও ওসিআই কার্ডধারী ব্যক্তির অধিকার এক নয়।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় ইমরান খান সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত নন। সে ক্ষেত্রে কেন তিনি ওই বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

শুনানিতে আদালত মন্তব্য করেন, ওসিআই কার্ডধারী হিসেবে ইমরান খানকে ভারতীয় নাগরিকের সমপর্যায়ে বিবেচনা করা যায় না।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইমরান খানকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে অথবা হলফনামার মাধ্যমে অনুশোচনা প্রকাশ করতে বলেন আদালত।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার অঙ্গীকার জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরে ইমরান খানের আইনজীবী ভেঙ্কটেশ ধোন্দ আদালতে তাঁর পক্ষ থেকে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার অঙ্গীকারনামা জমা দেন।

আদালত তা বিবেচনায় নিয়ে ভারত ছাড়ার নোটিশের ওপর আগের স্থগিতাদেশ বহাল রাখেন।

গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে আয়োজিত ওই কর্মসূচিস্থল থেকে ইমরান খানকে আটক করে মুম্বাই পুলিশ।

পরে বিজেপি নেতা কিরীট সোমাইয়া অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হয়েও বিক্ষোভে উপস্থিত থেকে ইমরান খান ওসিআই কার্ডের শর্ত ও অভিবাসনসংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘন করেছেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ অক্টোবর ভারতের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) অভিনেতাকে দেশ ছাড়ার নোটিশ দেয়।

নোটিশে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে তাঁকে ভারত ত্যাগ করতে বলা হয়।

এফআরআরওর নির্দেশের বিরুদ্ধে বোম্বে হাইকোর্টে আবেদন করেন ইমরান খান।

তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, অভিনেতা বিক্ষোভ সংগঠিত করেননি এবং তাঁকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

গত ২৭ অক্টোবর আদালত প্রথমে নোটিশের কার্যকারিতা ২ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখেন।

সোমবারের শুনানিতে আদালত বলেন, দীর্ঘদিন ভারতে বসবাসকারী কোনো ব্যক্তিকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার আগে তাঁর বক্তব্য জানানোর সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

আদালত ইমরান খানকে এফআরআরওর নোটিশের জবাব দেওয়ার সুযোগ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশ ছাড়ার নোটিশের ওপর স্থগিতাদেশ অব্যাহত রেখেছেন।

মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ৭ ডিসেম্বর।

তত দিন নোটিশটি কার্যকর না হওয়ায় আপাতত ভারতে অবস্থান করতে পারবেন ইমরান খান। তবে তাঁকে দেওয়া দেশ ছাড়ার নোটিশ পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি।

ওসিআই কার্ডধারীরা ভারতে দীর্ঘমেয়াদে বসবাস ও যাতায়াতের সুবিধা পান। তবে তাঁরা ভারতীয় নাগরিক নন। ভোট দেওয়া বা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকারও তাঁদের নেই।

ভারতের সংবিধানের ১৯ অনুচ্ছেদের অধীনে বাক্‌স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মৌলিক অধিকার ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত।

অন্যদিকে ওসিআই কার্ডের বিধানে রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নিতে আলাদা অনুমতির বাধ্যবাধকতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। ফলে ইমরান খানের উপস্থিতি অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, সে প্রশ্নের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

সূত্র : দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ