উত্তর-পূর্ব সোমালিয়ার উপকূলে ২৩ জন ক্রুসহ একটি ইরানি মাছ ধরার ট্রলার ছিনতাই করেছে সোমালি জলদস্যুরা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভারত মহাসাগরীয় সামুদ্রিক নিরাপত্তা কেন্দ্র (এমএসসিআইও) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ছিনতাইকৃত ট্রলারটির নাম ‘আজিনি’। এতে ২১ জন ইরানি জেলে এবং ২ জন সোমালি নিরাপত্তারক্ষীসহ মোট ২৩ জন ক্রু রয়েছেন। রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) ইরানের স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সোমালিয়ার বন্দর শহর বান্দার বেইলা থেকে প্রায় ১৮৫ নটিক্যাল মাইল পূর্বে আন্তর্জাতিক জলসীমায় সশস্ত্র ব্যক্তিরা ট্রলারটিতে জোরপূর্বক উঠে পড়ে এবং এর পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। রিপোর্টটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত ট্রলারে থাকা নাবিক ও জেলেদের সার্বিক নিরাপত্তা ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি।
এদিকে পুন্টল্যান্ড মেরিটাইম পুলিশের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন, অন্তত ১২ জন সশস্ত্র জলদস্যু পুরো ট্রলারটি এবং এর ২৩ জন আরোহীকে জিম্মি করে রেখেছে।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ‘আজিনি’ নামের এই ট্রলারটির আকার ও গঠনশৈলী সোমালি জলদস্যুদের কাছে ‘মাদার শিপ’ বা ভাসমান মূল ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী। সাধারণত উপকূল থেকে অনেক দূরে ছোট স্পিডবোট নিয়ে বড় বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রমণ করা সম্ভব হয় না। তাই জলদস্যুরা এ ধরনের ট্রলার ছিনতাই করে সেগুলোকে সাগরে নিজেদের অস্থায়ী ঘাঁটি বানায় এবং সেখান থেকে গভীর সমুদ্রে বাণিজ্যিক জাহাজে অভিযান চালায়।
এমএসসিআইও আরও জানিয়েছে, ছিনতাইয়ের পর ট্রলারটি আরও প্রায় ১১০ নটিক্যাল মাইল পূর্ব দিকে সরে গেছে, যা ওই অঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথের কাছাকাছি চলে এসেছে। ফলে জলদস্যুরা এটিকে ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজে পরবর্তী হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলে সংস্থাটি উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।
চলতি বছরের শুরু থেকেই সোমালি উপকূলে জলদস্যুদের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। কেবল গত গ্রীষ্মকালেই তারা অন্তত ছয়টি জাহাজ দখল করে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে ‘অনার ২৫’ নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকার উদ্ধারে স্থানীয় পুলিশ অভিযান চালালে ১৬ জন জলদস্যু ধরা পড়ে; তবে অভিযানের আগে ট্যাংকারে চলা গোলাগুলিতে ৫ জন জিম্মির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল।
সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি
মন্তব্যসমূহ