ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর রেশ ও ক্ষয়ক্ষতি কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়েছে নতুন একটি নিম্নচাপ। ক্রমেই শক্তি সঞ্চয় করে ঘনীভূত হতে থাকা এই নিম্নচাপটি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)।
শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) আইএমডির বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। বর্তমান গতিপথ অব্যাহত থাকলে আগামী ২ নভেম্বর সন্ধ্যার মধ্যে এটি ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাবে এবং ৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার) সকালে সরাসরি স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) প্যানেলের তালিকা অনুযায়ী সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়টির নাম হবে ‘মুরাসু’। নামটি ভারতের প্রস্তাবিত, যার তামিল অর্থ ‘ঢোল বা বাদ্যযন্ত্রবিশেষ’।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, আঘাত হানার সময় সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র কেন্দ্রে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার থাকতে পারে, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে এটি সম্প্রতি ২৮ অক্টোবর অন্ধ্র ও ওড়িশা উপকূলে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়া অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর মতো অতটা শক্তিশালী বা ধ্বংসাত্মক রূপ নাও নিতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ভারতের একাধিক উপকূলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকেই অন্ধ্র প্রদেশ, উত্তর তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি উপকূলে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে। ২ নভেম্বর বিকেল থেকে অন্ধ্র উপকূলে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে ৬৫ থেকে ৭৫ কিলোমিটারে পৌঁছাবে এবং ৩ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দমকা হাওয়া বইতে পারে।
একই সঙ্গে ২ ও ৩ নভেম্বর অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলীয় এলাকা, রায়লসীমা অঞ্চল ও পুদুচেরির ইয়ানামে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলবর্তী অঞ্চলে ২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে দমকা হাওয়া এবং ৩ ও ৪ নভেম্বর টানা ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ৪ নভেম্বর সকাল থেকে আবহাওয়া পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হতে পারে।
মন্তব্যসমূহ