লংমার্চের মতো কর্মসূচি পরিহার করে সংবিধান সংস্কারসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সংকট নিরসনে বিরোধী দলকে আলোচনায় বসার আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, রাজপথে লংমার্চ করে কোনো সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব নয়; বরং সংবিধানে প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার আনতে হলে রাজনৈতিক সমঝোতা ও সর্বসম্মত ঐকমত্য একান্ত অপরিহার্য।
শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকার শেরেবাংলা নগরে নবনির্মিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর মনসুন থিয়েটারে আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে ভবিষ্যতে যেন আর কোনো নতুন ‘জুলাই জাদুঘর’ গড়ে তোলার মতো রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরশাসন ও ফ্যাসিবাদের পথ চিরতরে রুদ্ধ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা এবং তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য সংবিধানে প্রাতিষ্ঠানিক ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। ঐকমত্য ছাড়া সংবিধান সংশোধন করলে তা দীর্ঘস্থায়ী রূপ পাবে না।
দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো টেকসই করার রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার স্থায়ী আইনি নিশ্চয়তা প্রদান এবং মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কার্যকর ওয়াচডগ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
ইতিহাসের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে বাকশাল কায়েম এবং ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করাই দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল, যা চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের প্রধান পটভূমি হিসেবে কাজ করে। ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের কোনো অঙ্গ যেন অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার অধিকারী হতে না পারে, সে লক্ষ্যে বিচারকদের জবাবদিহির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা, সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন (পিআর) পদ্ধতি এবং গণভোটসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে কোনো একক সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিরোধী দলসহ সব রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার আগ্রহ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা বিভাজন চায় না; বরং জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে সবার অংশগ্রহণে একটি সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণই মূল লক্ষ্য।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং আলোচনায় অংশ নেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমেদ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান।
মন্তব্যসমূহ