তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে পুনরায় জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর প্রবল ঝুঁকি ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তীব্র উদ্বেগ সত্ত্বেও আফগান শরণার্থীদের পাকিস্তানে পাঠানোর ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই আগামী সোমবারের মধ্যে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে করে এসব শরণার্থীকে পাকিস্তানে পাঠানোর প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের ‘ক্যাম্প আস সাইলিয়া’ নামের একটি মার্কিন নিয়ন্ত্রিত অন্তর্বর্তীকালীন ট্রানজিট শিবিরে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা শত শত আফগান নাগরিককে নিয়ে এই চরম মানবিক সংকট ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এর আগে ক্যাম্পটি স্থানান্তরের সময়সীমা একাধিকবার পিছিয়ে দিলেও সম্প্রতি এটি সম্পূর্ণ খালি করার চূড়ান্ত উদ্যোগ নেয়। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন এসব আফগানকে আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে স্থানান্তরের বিতর্কিত পরিকল্পনা বিবেচনা করেছিল, যা মহামারিসহ বিভিন্ন কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে আফগানদের উদ্ধার ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘আফগানইভাক’ (AfghanEvac)।
মানবাধিকার বিশ্লেষক ও শরণার্থী সহায়তা সংস্থাগুলোর মূল শঙ্কা হলো—পাকিস্তানে পৌঁছানোর পর এই অসহায় মানুষদের ওপর নতুন করে সংকট নেমে আসবে। পাকিস্তান সরকার গত কয়েক বছর ধরে লাখ লাখ আফগানকে দেশটিতে ফেরত পাঠাচ্ছে। ফলে এই শরণার্থীদের ইসলামাবাদ কর্তৃপক্ষ কোনো আইনি সুরক্ষা ছাড়াই পুনরায় তালেবানদের হাতে তুলে দিতে পারে, যার পরিণতি হতে পারে চরম নির্যাতন, কারাদণ্ড কিংবা মৃত্যু। বিমানগুলো পাকিস্তানের ঠিক কোন বিমানবন্দরে অবতরণ করবে এবং উভয় দেশের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছে কি না, তা এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত রাখা হয়েছে।
যদিও মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও পররাষ্ট্র দফতর অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়নি।
সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর
মন্তব্যসমূহ