ঢাকা    শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি: উপসাগরীয় মিত্রদের সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি: উপসাগরীয় মিত্রদের সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা পরিচালনার সম্ভাবনা সামনে রেখে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত ও সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পরদিন, অর্থাৎ ৪ নভেম্বর থেকেই এই সম্ভাব্য সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘এমএস নাও’ (MS Now)-এর বরাতে ইসরায়েলি দৈনিক ‘টাইমস অব ইসরায়েল’ জানিয়েছে, আলোচনার স্পর্শকাতরতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনজন জ্যেষ্ঠ উপসাগরীয় আরব কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ওয়াশিংটন মিত্রদের সতর্ক করে জানিয়েছে যে এই সম্ভাব্য সামরিক অভিযানটি স্বল্পমেয়াদী হলেও এর আঘাতের তীব্রতা ও মাত্রা হবে অত্যন্ত ব্যাপক।

এদিকে নতুন করে হামলার সূত্রপাত হলে ইরানের পক্ষ থেকে সরাসরি বা প্রক্সি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভয়াবহ পাল্টা আঘাত আসার শঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে উপসাগরীয় দেশগুলো। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা ওয়াশিংটনকে উত্তেজনা প্রশমন ও সংযম প্রদর্শনের জোর আহ্বান জানাচ্ছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উত্তেজনার পারদ চরমে পৌঁছালে নিজেদের ভূখণ্ড ও তেল অবকাঠামো রক্ষার্থে কিছু উপসাগরীয় দেশ তাদের মাটিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে অভিযান পরিচালনায় সরাসরি আপত্তি জানাতে পারে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের সমীকরণ তৈরি করবে।

উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ওয়াশিংটন ইরানে নতুন করে কোনো সরাসরি হামলা চালায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পূর্বে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে ইরানে আর কোনো নতুন সামরিক অভিযান পরিচালিত হবে না।

সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এমএস নাওকে জানান, যেসব সংবেদনশীল সামরিক পরিকল্পনা থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে—তা নিয়ে প্রশাসন কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করে না। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান যাতে কোনো অবস্থাতেই পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে, তা নিশ্চিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব ধরনের সামরিক ও কৌশলগত বিকল্প টেবিলে খোলা রেখেছেন।

বার্তা সংস্থা এপি-ও পৃথক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশকে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা এবং পরবর্তী ইরানি প্রতিঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে ওয়াশিংটন ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত আদেশে স্বাক্ষর করেননি বলে সংশ্লিষ্ট দুই কূটনীতিক নিশ্চিত করেছেন। ফলে ৪ নভেম্বরকে সম্ভাব্য দিনক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো সামরিক ঘোষণা আসেনি।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

ট্যাগ : যুক্তরাষ্ট্র

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬


ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি: উপসাগরীয় মিত্রদের সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা পরিচালনার সম্ভাবনা সামনে রেখে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত ও সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পরদিন, অর্থাৎ ৪ নভেম্বর থেকেই এই সম্ভাব্য সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘এমএস নাও’ (MS Now)-এর বরাতে ইসরায়েলি দৈনিক ‘টাইমস অব ইসরায়েল’ জানিয়েছে, আলোচনার স্পর্শকাতরতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনজন জ্যেষ্ঠ উপসাগরীয় আরব কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ওয়াশিংটন মিত্রদের সতর্ক করে জানিয়েছে যে এই সম্ভাব্য সামরিক অভিযানটি স্বল্পমেয়াদী হলেও এর আঘাতের তীব্রতা ও মাত্রা হবে অত্যন্ত ব্যাপক।

এদিকে নতুন করে হামলার সূত্রপাত হলে ইরানের পক্ষ থেকে সরাসরি বা প্রক্সি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভয়াবহ পাল্টা আঘাত আসার শঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে উপসাগরীয় দেশগুলো। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা ওয়াশিংটনকে উত্তেজনা প্রশমন ও সংযম প্রদর্শনের জোর আহ্বান জানাচ্ছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উত্তেজনার পারদ চরমে পৌঁছালে নিজেদের ভূখণ্ড ও তেল অবকাঠামো রক্ষার্থে কিছু উপসাগরীয় দেশ তাদের মাটিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে অভিযান পরিচালনায় সরাসরি আপত্তি জানাতে পারে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের সমীকরণ তৈরি করবে।

উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ওয়াশিংটন ইরানে নতুন করে কোনো সরাসরি হামলা চালায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পূর্বে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে ইরানে আর কোনো নতুন সামরিক অভিযান পরিচালিত হবে না।

সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এমএস নাওকে জানান, যেসব সংবেদনশীল সামরিক পরিকল্পনা থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে—তা নিয়ে প্রশাসন কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করে না। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান যাতে কোনো অবস্থাতেই পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে, তা নিশ্চিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব ধরনের সামরিক ও কৌশলগত বিকল্প টেবিলে খোলা রেখেছেন।

বার্তা সংস্থা এপি-ও পৃথক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশকে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা এবং পরবর্তী ইরানি প্রতিঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে ওয়াশিংটন ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত আদেশে স্বাক্ষর করেননি বলে সংশ্লিষ্ট দুই কূটনীতিক নিশ্চিত করেছেন। ফলে ৪ নভেম্বরকে সম্ভাব্য দিনক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো সামরিক ঘোষণা আসেনি।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ