চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হারে ছেলেদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন মেয়েরা। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও ছাত্রীদের পাসের হার বেশি। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিটিতেই এই প্রবণতা দেখা গেছে।
প্রতিবেদনে দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে।
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৯ জন ছাত্রী এবং ৬ লাখ ৭ হাজার ৬৪৯ জন ছাত্র। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জনের মধ্যে ছাত্রী ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন এবং ছাত্র ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন।
সাধারণ ৯ বোর্ডে ছাত্রীদের সাফল্য
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবধান দেখা গেছে বরিশালে। এ বোর্ডে ছাত্রীদের পাসের হার ৫২ দশমিক ৯৭ শতাংশ, আর ছাত্রদের ৩৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ব্যবধান ১৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ পয়েন্ট। বরিশালে সামগ্রিক পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
রাজশাহী বোর্ডেও ছাত্রীদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ০৩ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের হার ৩৭ দশমিক ৭১ শতাংশ। এ বোর্ডে সার্বিক পাসের হার ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ।
ঢাকা বোর্ডে ছাত্রদের পাসের হার ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৬২ দশমিক ৫২ শতাংশ। বোর্ডটির সামগ্রিক পাসের হার ৬১ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
চট্টগ্রাম বোর্ডে ছাত্রীদের পাসের হার ৫৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ, ছাত্রদের ৪৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এ বোর্ডে সার্বিক পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ।
ময়মনসিংহ বোর্ডে ছাত্রীদের পাসের হার ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ। ছাত্রদের ক্ষেত্রে এ হার ৪৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। বোর্ডটির সামগ্রিক পাসের হার ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
সিলেট বোর্ডে ছাত্রদের পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭২ শতাংশের বিপরীতে ছাত্রীদের ৫২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এ বোর্ডে মোট পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ।
দিনাজপুর বোর্ডে ছাত্রীদের পাসের হার ৫০ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং ছাত্রদের ৪১ দশমিক ৩১ শতাংশ। সার্বিক পাসের হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
কুমিল্লা বোর্ডে ছাত্রদের পাসের হার ৪৩ দশমিক ১৭ শতাংশ, আর ছাত্রীদের ৫১ দশমিক ২৬ শতাংশ। এ বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৪৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
যশোর বোর্ডেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে ছাত্রীদের পাসের হার ৫০ দশমিক ৩০ শতাংশ, ছাত্রদের ৩৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। বোর্ডটির সার্বিক পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ।
মাদরাসা ও কারিগরি বোর্ডেও এগিয়ে মেয়েরা
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় ছাত্রীদের পাসের হার ৬৪ দশমিক ৯০ শতাংশ। ছাত্রদের ক্ষেত্রে তা ৫৮ দশমিক ১০ শতাংশ। এ বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ছাত্র ও ছাত্রীদের পাসের হারের ব্যবধান আরও বেশি। এ বোর্ডে ছাত্রীদের পাসের হার ৬১ দশমিক ৬৪ শতাংশ, আর ছাত্রদের ৪৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ। অর্থাৎ এখানে ছাত্রীদের পাসের হার প্রায় ১৭ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। কারিগরি বোর্ডে সার্বিক পাসের হার ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
অনুপস্থিত ছিলেন প্রায় ৪০ হাজার পরীক্ষার্থী
চলতি বছরের পরীক্ষায় মোট ৩৯ হাজার ৬৫১ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে ২৯ হাজার ৭৭৫ জন, মাদরাসা বোর্ডে ৪ হাজার ১৫০ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ৫ হাজার ৭২৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।
সারাদেশে অনুপস্থিত ছাত্রের সংখ্যা ২০ হাজার ৪৮৩ এবং ছাত্রীর সংখ্যা ১৯ হাজার ১৬৮ জন।
এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় গত ২ জুলাই। মূল সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল ৮ আগস্ট। তবে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হয়ে ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হয়।
তথ্যে অসংগতি: সরবরাহকৃত প্রতিবেদনে ছাত্রীদের মোট অংশগ্রহণের সংখ্যা এক জায়গায় ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৮ এবং অন্য জায়গায় ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৯ উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া সাধারণ ৯টি বোর্ডের অংশগ্রহণকারী ও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর বোর্ডভিত্তিক সংখ্যার যোগফলের সঙ্গে প্রতিবেদনে দেওয়া মোট সংখ্যার অমিল রয়েছে। প্রকাশের আগে মূল ফলাফলের সঙ্গে এসব পরিসংখ্যান যাচাই করা প্রয়োজন।
মন্তব্যসমূহ