কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম সিনেমা হিসেবে পরিচিত ‘গ্যাপ’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে আগামী ৩১ অক্টোবর। পরিচালক মাবরুর রশিদ বান্নাহর এই চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে কোনো দৃশ্য কাটছাঁট ছাড়াই প্রদর্শনের অনুমতি পেয়েছে।
নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, সিনেমাটির চিত্রনাট্য, চরিত্র নির্মাণ, অ্যানিমেশন, আবহসংগীত এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসের বড় একটি অংশ তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে। চলচ্চিত্রটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে প্রদর্শনের জন্য অনুমতি পেয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর ক্লাব ইলেভেন এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে এটি প্রকাশ করা হবে। সিনেমাটির প্রযোজক আকবর হায়দার মুন্না।
চলচ্চিত্রটির নির্মাণ নিয়ে পরিচালক মাবরুর রশিদ বান্নাহ বলেন, "‘গ্যাপ’ শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়, এটি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে একটি সাহসী পরীক্ষা। আমরা যখন সম্পূর্ণ এআই-পাওয়ার্ড (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত) একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিই, তখন অনেকেই বিষয়টিকে অসম্ভব ভেবেছিলেন।"
তিনি আরও বলেন, "কিন্তু আমরা হাল ছাড়িনি। আন্তর্জাতিক মানের এআই টুলস ব্যবহার করে দীর্ঘদিনের অক্লান্ত পরিশ্রমে আমরা প্রতিটি ফ্রেম নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে কোনো দৃশ্যকর্তন ছাড়াই ‘আনকাট’ ছাড়পত্র পাওয়া আমাদের জন্য এক বিশাল স্বীকৃতি। এটি প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে তৈরি কনটেন্টও দর্শকদের মন ছুঁতে পারে। কম বাজেট এবং সীমিত জনবল নিয়েও যে বিশ্বমানের কাজ করা সম্ভব, ‘গ্যাপ’ তার অন্যতম উদাহরণ।"
বান্নাহর প্রত্যাশা, সিনেমাটি দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন ধারার সূচনা করবে এবং তরুণ নির্মাতাদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করবে। তিনি বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, এই সিনেমাটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে এক নতুন যুগের সূচনা করবে এবং তরুণ নির্মাতাদের নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারে আরও সাহসী করে তুলবে। খুব দ্রুতই সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে আসছে। আশা করি দর্শকরা থিয়েটারে এসে নতুন এই অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানাবেন।"
সিনেমাটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন এআই ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট আর্ক শিহাব, পরিচালক মাবরুর রশিদ বান্নাহ, রিজভী রিজু, সিনথিয়া ইয়াসমিন নুপুর, মিষ্টি ঘোষ, মোমেনা চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম রাফি ও জাহাঙ্গীর আলমসহ আরও অনেকে।
প্রযুক্তিনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের সিনেমায় এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্যসমূহ