বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র তুরস্কের ক্যাপাডোসিয়ায় ভূমিধসে বিশাল একটি পাথরের স্তম্ভ ধসে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন বিদেশি নাগরিক এবং দুজন তুরস্কের নাগরিক। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে নেভশেহির প্রদেশের গোরেমে শহরে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ভারি বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের সৃষ্টি হলে শহরের উন্মুক্ত জাদুঘরের কাছের একটি গাড়ি পার্কিং এলাকার পাশে থাকা পাথরের স্তম্ভটি ভেঙে পড়ে।
তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রথমে দুজন নিহত ও পাঁচজন আহত হওয়ার তথ্য জানান। পরে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে তিনে দাঁড়ায়।
নেভশেহির প্রদেশের গভর্নর হুসেইন কোক জানান, নিহতদের একজন বিদেশি নাগরিক। অন্য দুজন তুরস্কের নাগরিক।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্তম্ভটি ধসে পড়ার সময় বিকট শব্দ হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনাস্থল ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার কারণে এলাকাটি সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।
উদ্ধারকর্মীরা শক্তিশালী আলোর ব্যবস্থা করে রাতভর ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালান। এ সময় খননযন্ত্রও ব্যবহার করা হয়। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর গভর্নর হুসেইন কোক জানান, তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ শেষে উদ্ধারকারী দলগুলোকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আপাতত সেখানে আর কোনো অভিযান চালানোর প্রয়োজন নেই।
গভর্নর আরও জানান, শুক্রবার থেকে প্রধান সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের উদ্যোগে দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু হবে। বিশেষজ্ঞরাও ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করবেন।
ক্যাপাডোসিয়া তুরস্কের অন্যতম পরিচিত পর্যটন অঞ্চল। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা এলাকাটি আগ্নেয়গিরির প্রাচীন কার্যকলাপে গড়ে ওঠা শঙ্কু আকৃতির পাথুরে স্তম্ভের জন্য বিখ্যাত। স্থানীয়ভাবে এসব পাথুরে গঠনকে ‘ফেরি চিমনি’ নামে ডাকা হয়।
সূত্র: সিএনএ।
মন্তব্যসমূহ