রাজধানীতে খেলার মাঠের সংকট নিরসনে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অব্যবহৃত ও দখল হয়ে থাকা জায়গা উদ্ধার করে খেলার উপযোগী করার পাশাপাশি দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে ফুটসাল গ্রাউন্ড নির্মাণ করা হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে রাজধানীর মাঠের সংকট অনেকটাই কমিয়ে আনার আশাবাদ জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খালি পড়ে থাকা জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যেসব মাঠ অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে, সেগুলো উদ্ধার করে আবারও খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে গৃহায়ণ ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
দেশজুড়ে নতুন খেলার অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ফুটসাল গ্রাউন্ড নির্মাণের নির্দেশনা দিয়েছেন। এ জন্য ইতিমধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব মাঠ নির্মাণ করা হবে।’
রাজধানীর উত্তরা মডেল টাউনের তৃতীয় পর্বে ২৭টির বেশি মাঠ রয়েছে বলেও জানান তিনি। এসব মাঠের পাশাপাশি পূর্বাচলে মাঠের জন্য নির্ধারিত জায়গা নিয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
মাঠ নির্মাণ ও সংরক্ষণের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে একাধিক মন্ত্রণালয়কে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, গৃহায়ণ, ভূমি, পানিসম্পদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন আবাসন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। মাঠের জন্য বরাদ্দ রাখা জায়গাগুলো বুঝে নিয়ে সেগুলোতে বেড়া দেওয়া ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে খেলাধুলার উপযোগী করা হবে। এসব মাঠ সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
আমিনুল হক বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠানের কাছে মাঠের জন্য নির্ধারিত জায়গা রয়েছে, সেগুলো বুঝে নিয়ে বেড়া দেওয়া ও সংস্কারের মাধ্যমে খেলার উপযোগী করা হবে। এসব মাঠ সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে, যাতে এলাকার শিশুসহ সাধারণ মানুষ খেলাধুলার সুযোগ পায়।’
রাজধানীর দীর্ঘদিনের মাঠসংকট নিয়ে আশাবাদ জানিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে একটু সময় দিন। বিশ্বাস করুন, ঢাকা শহরে যে মাঠের খরা, সেটা আগামী এক বছরের মধ্যে অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পারব।’
সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্যও উন্মুক্ত খেলার জায়গা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্যসমূহ