ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইলিশ শিকারে প্রস্তুত উপকূল: বরগুনার ঘাটগুলোতে ব্যস্ততা

ইলিশ শিকারে প্রস্তুত উপকূল: বরগুনার ঘাটগুলোতে ব্যস্ততা
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

মা ইলিশ সংরক্ষণ ও বংশবৃদ্ধির লক্ষ্যে টানা ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) মধ্যরাত ১২টা ১ মিনিট থেকে আবারও ইলিশসহ সব ধরনের সামুদ্রিক মাছ শিকারে সাগরে নামছেন উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা।

দীর্ঘ বিরতির পর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়া উপলক্ষে দেশের অন্যতম প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বরগুনার পাথরঘাটা, তালতলী, আমতলী ও বরগুনা সদর উপজেলার বিভিন্ন মৎস্যঘাটে এখন বিরাজ করছে শেষ মুহূর্তের কর্মব্যস্ততা। ট্রলারের ইঞ্জিন পরীক্ষা, ক্ষতিগ্রস্ত জাল মেরামত, বরফ ও জ্বালানি তেল লোডিং এবং প্রয়োজনীয় রসদ ও খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলে ও ট্রলার মালিকরা।

দীর্ঘ ২২ দিন কর্মহীন থাকার পর সাগরে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত রূপালি ইলিশ পাওয়ার আশায় জেলেরা বুক বাঁধলেও তাঁদের চোখেমুখে রয়েছে উদ্বেগ আর শঙ্কার ছাপ। মাছের সম্ভাব্য প্রাপ্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তা, ডিজেল ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামের বর্ধিত মূল্য, মহাজনের দাদন ও ঋণের চাপ এবং নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকারি সহায়তার অপ্রতুলতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলেরা। দীর্ঘ সময় আয় বন্ধ থাকায় অনেক পরিবারকে চড়া সুদে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়েছে। তাই সাগরে গিয়ে পর্যাপ্ত মাছ না পেলে দেনা পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।

জেলেদের অভিযোগ, বরগুনায় ৫২ হাজার ৪৭৬ জন নিবন্ধিত জেলে থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে আরও প্রায় অর্ধলাখ প্রকৃত জেলে অনিবন্ধিত রয়ে গেছেন। বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনা ও স্বজনপ্রীতির কারণে বহু প্রকৃত জেলে তালিকায় স্থান পাননি, ফলে তাঁরা প্রণোদনা সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন।

বরগুনা জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২২ দিনের মা ইলিশ রক্ষা অভিযান কঠোরভাবে বাস্তবায়নে জেলায় ৩২৫টি বিশেষ অভিযান ও ৮৪টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে আইন অমান্য করায় ৩০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, ১০টি নিয়মিত মামলা, ৮১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং প্রায় ৬ লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়। এ সময়ে জেলার ৩৯ হাজার ৪৬৯ জন নিবন্ধিত জেলের মাঝে মোট ৯৮৬ দশমিক ৭২৫ মেট্রিক টন চাল খাদ্য সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে।

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে সাগরে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সার্বিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় ট্রলারপ্রতি খরচ ওঠানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি আগামী দিনগুলোতে প্রকৃত জেলেদের তালিকা হালনাগাদ করে খাদ্য সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

অন্যদিকে বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন বলেন, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই উৎপাদন নিশ্চিতে এই ২২ দিনের সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত সফল হয়েছে। এর সুফল সরাসরি পাবেন জেলেরাই। সাগরে পর্যাপ্ত মাছ ধরা পড়লে উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা তাঁদের দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ট্যাগ : ইলিশ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


ইলিশ শিকারে প্রস্তুত উপকূল: বরগুনার ঘাটগুলোতে ব্যস্ততা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মা ইলিশ সংরক্ষণ ও বংশবৃদ্ধির লক্ষ্যে টানা ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) মধ্যরাত ১২টা ১ মিনিট থেকে আবারও ইলিশসহ সব ধরনের সামুদ্রিক মাছ শিকারে সাগরে নামছেন উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা।

দীর্ঘ বিরতির পর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়া উপলক্ষে দেশের অন্যতম প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বরগুনার পাথরঘাটা, তালতলী, আমতলী ও বরগুনা সদর উপজেলার বিভিন্ন মৎস্যঘাটে এখন বিরাজ করছে শেষ মুহূর্তের কর্মব্যস্ততা। ট্রলারের ইঞ্জিন পরীক্ষা, ক্ষতিগ্রস্ত জাল মেরামত, বরফ ও জ্বালানি তেল লোডিং এবং প্রয়োজনীয় রসদ ও খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলে ও ট্রলার মালিকরা।

দীর্ঘ ২২ দিন কর্মহীন থাকার পর সাগরে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত রূপালি ইলিশ পাওয়ার আশায় জেলেরা বুক বাঁধলেও তাঁদের চোখেমুখে রয়েছে উদ্বেগ আর শঙ্কার ছাপ। মাছের সম্ভাব্য প্রাপ্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তা, ডিজেল ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামের বর্ধিত মূল্য, মহাজনের দাদন ও ঋণের চাপ এবং নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকারি সহায়তার অপ্রতুলতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলেরা। দীর্ঘ সময় আয় বন্ধ থাকায় অনেক পরিবারকে চড়া সুদে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়েছে। তাই সাগরে গিয়ে পর্যাপ্ত মাছ না পেলে দেনা পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।

জেলেদের অভিযোগ, বরগুনায় ৫২ হাজার ৪৭৬ জন নিবন্ধিত জেলে থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে আরও প্রায় অর্ধলাখ প্রকৃত জেলে অনিবন্ধিত রয়ে গেছেন। বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনা ও স্বজনপ্রীতির কারণে বহু প্রকৃত জেলে তালিকায় স্থান পাননি, ফলে তাঁরা প্রণোদনা সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন।

বরগুনা জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২২ দিনের মা ইলিশ রক্ষা অভিযান কঠোরভাবে বাস্তবায়নে জেলায় ৩২৫টি বিশেষ অভিযান ও ৮৪টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে আইন অমান্য করায় ৩০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, ১০টি নিয়মিত মামলা, ৮১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং প্রায় ৬ লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়। এ সময়ে জেলার ৩৯ হাজার ৪৬৯ জন নিবন্ধিত জেলের মাঝে মোট ৯৮৬ দশমিক ৭২৫ মেট্রিক টন চাল খাদ্য সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে।

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে সাগরে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সার্বিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় ট্রলারপ্রতি খরচ ওঠানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি আগামী দিনগুলোতে প্রকৃত জেলেদের তালিকা হালনাগাদ করে খাদ্য সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

অন্যদিকে বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন বলেন, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই উৎপাদন নিশ্চিতে এই ২২ দিনের সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত সফল হয়েছে। এর সুফল সরাসরি পাবেন জেলেরাই। সাগরে পর্যাপ্ত মাছ ধরা পড়লে উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা তাঁদের দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ