ঢাকা    শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

৮৬ বছর বয়সে মারা গেছেন প্রফেসর এক্সখ্যাত প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট

৮৬ বছর বয়সে মারা গেছেন প্রফেসর এক্সখ্যাত প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

শেক্সপিয়ারের কালজয়ী নাটকের মঞ্চ থেকে হলিউডের জনপ্রিয় বিজ্ঞান কল্পকাহিনিনির্ভর চলচ্চিত্র—অভিনয়ের বিচিত্র জগতে ছয় দশকের বেশি সময় ধরে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন ব্রিটিশ অভিনেতা প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট। ‘স্টার ট্রেক’-এর ক্যাপ্টেন জ্যাঁ-লুক পিকার্ড এবং ‘এক্স-মেন’-এর প্রফেসর চার্লস জেভিয়ার চরিত্রে বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই অভিনেতা আর নেই। ৮৬ বছর বয়সে মারা গেছেন তিনি।

গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজ বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট। বৃহস্পতিবার তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।

বিবৃতিতে জানানো হয়, আলঝেইমার রোগ ও লিউই বডি ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন এই অভিনেতা। শেষ সময় স্ত্রী সানি ওজেল তার পাশে ছিলেন। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে সংগীত, প্রার্থনা, হাসি-কান্না এবং ভালোবাসার পরিবেশে কেটেছে তার জীবনের শেষ দিনগুলো।

১৯৪০ সালের ১৩ জুলাই ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারের মিরফিল্ডে জন্মগ্রহণ করেন প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট। সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা এই অভিনেতার ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল। বিশেষ করে উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের নাটক তার মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। অভিনয়ের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শেষে তিনি যুক্ত হন ব্রিটেনের মর্যাদাপূর্ণ রয়্যাল শেক্সপিয়ার কোম্পানিতে। সেখানে ১৪ বছর কাজ করে মঞ্চাভিনেতা হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

দীর্ঘদিন মঞ্চে কাজ করলেও আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে তার পরিচিতি আসে টেলিভিশনের মাধ্যমে। ১৯৮৭ সালে শুরু হওয়া ‘স্টার ট্রেক: দ্য নেক্সট জেনারেশন’ ধারাবাহিকে ক্যাপ্টেন জ্যাঁ-লুক পিকার্ডের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। তখন তার বয়স ছিল ৪৭ বছর।

১৯৮৭ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত সাত মৌসুমে প্রচারিত ধারাবাহিকটি তাকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা এনে দেয়। পরবর্তী সময়ে ‘স্টার ট্রেক’ ফ্র্যাঞ্চাইজির একাধিক চলচ্চিত্রেও একই চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে তার পরিচিতির বড় অংশজুড়ে রয়েছে ‘এক্স-মেন’ সিরিজ। ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া প্রথম ‘এক্স-মেন’ চলচ্চিত্রে অধ্যাপক চার্লস জেভিয়ার বা প্রফেসর এক্স চরিত্রে অভিনয় করেন স্টুয়ার্ট। অতিমানবীয় ক্ষমতাসম্পন্ন মিউট্যান্টদের নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্র সিরিজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিল এটি।

পরবর্তী সময়ে সিরিজের আরও কয়েকটি চলচ্চিত্রে তাকে দেখা গেছে। ২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘লোগান’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন তিনি। এ ছাড়া মার্ভেলের আসন্ন ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ চলচ্চিত্রেও তার উপস্থিতির কথা জানা গেছে।

বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এলেও স্টুয়ার্টের অভিনয়জীবনের বড় সময় কেটেছে থিয়েটারে। শেক্সপিয়ারের নাটকে ক্লডিয়াস থেকে ম্যাকবেথসহ বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। পাশাপাশি চার্লস ডিকেন্সের ‘এ ক্রিসমাস ক্যারল’ নাটক একক অভিনয়ে মঞ্চস্থ করতেন।

ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও অভিনেতা ইয়ান ম্যাককেলেনের সঙ্গে হ্যারল্ড পিন্টারের ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ এবং স্যামুয়েল বেকেটের ‘ওয়েটিং ফর গডো’ নাটকেও অভিনয় করেছেন। ওয়েস্ট এন্ড ও ব্রডওয়েতে মঞ্চস্থ হয়েছিল নাটক দুটি।

অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনটি অলিভিয়ে পুরস্কার পেয়েছেন স্টুয়ার্ট। এর মধ্যে একটি ছিল ডেভিড টেন্যান্টের বিপরীতে ‘হ্যামলেট’ নাটকে ক্লডিয়াস চরিত্রে অভিনয়ের জন্য। ১৯৯৬ সালে ‘পিটার অ্যান্ড দ্য উলফ’ অডিও রেকর্ডিংয়ের জন্য সেরা কথ্য অ্যালবাম বিভাগে গ্র্যামি পুরস্কারও অর্জন করেন তিনি।

তার অভিনয়জীবনের অন্যতম প্রশংসিত কাজ ছিল ম্যাকবেথ চরিত্রে অভিনয়। রুপার্ট গুল্ডের পরিচালনায় নাটকটির প্রথম মঞ্চায়ন হয় ২০০৭ সালের মে মাসে ইংল্যান্ডের চিচেস্টার ফেস্টিভ্যাল থিয়েটারে। পরে লন্ডনের ওয়েস্ট এন্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিন একাডেমি অব মিউজিকে প্রদর্শিত হয় এটি। ২০০৮ সালে নাটকটি ব্রডওয়েতে স্থানান্তরিত হয়।

এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ক্যারিয়ারের একমাত্র টনি অ্যাওয়ার্ড মনোনয়ন পেয়েছিলেন স্টুয়ার্ট। তার অভিনয় নিয়ে দ্য টাইমস অব লন্ডন লিখেছিল, তার ম্যাকবেথ চরিত্রটি ছিল ‘দুর্বলতা, আকাঙ্ক্ষা, আত্মম্ভরিতা ও বিষণ্ন রসবোধের এক মুগ্ধকর সৃষ্টি’। দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ তার অভিনয়কে অভিহিত করেছিল ‘সত্যিকার অর্থেই অসাধারণ অভিনয়’ হিসেবে। অন্যদিকে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস নাটকটিকে বলেছিল ‘অবশ্যই দেখার মতো’।

২০০৮ সালে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাকবেথ চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে স্টুয়ার্ট বলেছিলেন, ‘প্রায় ৫০ বছর ধরে আমি এই চরিত্রে অভিনয়ের অপেক্ষা করেছি। ১৪ বছর বয়সে নাটকটি শিখেছিলাম। শুধু সংলাপগুলো অসাধারণ মনে হয়েছিল বলেই সব স্বগতোক্তি মুখস্থ করে ফেলেছিলাম। সেগুলো আমার মনে গেঁথে গিয়েছিল। ফলে নাটকের ওই অংশগুলো আর নতুন করে শিখতে হয়নি। এটা ছিল আশীর্বাদের মতো। কারণ, এখন সংলাপ মুখস্থ করাই এই পেশার সবচেয়ে বড় অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

প্যাট্রিক স্টুয়ার্টের মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহকর্মী ইয়ান ম্যাককেলেন। বন্ধুকে স্মরণ করে তিনি লিখেছেন, ‘তিনি নিজের অনুভূতি কখনো আড়াল করতেন না। এ কারণেই তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যার ওপর নির্ভর করা যায়, যাকে শ্রদ্ধা করা যায় এবং আমার ক্ষেত্রে যাকে ভালোবাসা যায়।’

‘স্টার ট্রেক’ সিরিজের অভিনেতা উইলিয়াম শ্যাটনারও স্টুয়ার্টের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন। তার প্রজ্ঞা, সৌজন্য ও মানবিকতার কথা স্মরণ করেছেন তিনি। অন্যদিকে ‘এক্স-মেন’ সিরিজে তার সহশিল্পী হিউ জ্যাকম্যান স্টুয়ার্টকে মঞ্চ ও পর্দার অন্যতম সেরা অভিনয়শিল্পী হিসেবে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। মার্ভেল স্টুডিওসও তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

অভিনয়ের বাইরেও মানবাধিকার, পারিবারিক সহিংসতার শিকার মানুষ, শরণার্থী এবং প্রাণিকল্যাণের পক্ষে কাজ করেছেন স্টুয়ার্ট। মঞ্চ ও পর্দায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১০ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন। এরপর থেকে নামের আগে যুক্ত হয় ‘স্যার’।

ব্যক্তিজীবনে ২০১৩ সালে সংগীতশিল্পী সানি ওজেলকে বিয়ে করেন তিনি। মৃত্যুকালে স্ত্রী ছাড়াও আগের সংসারের দুই সন্তান ড্যানিয়েল ও সোফিকে রেখে গেছেন এই অভিনেতা।

ক্যাপ্টেন পিকার্ড, প্রফেসর এক্স কিংবা শেক্সপিয়ারের ম্যাকবেথ—বিভিন্ন সময়ের ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট প্রমাণ করেছিলেন অভিনয়ের গভীরতা কোনো নির্দিষ্ট ঘরানায় সীমাবদ্ধ নয়। তার দীর্ঘ অভিনয়জীবনের সেই বৈচিত্র্যই তাকে দর্শকের কাছে স্মরণীয় করে রাখবে।

ট্যাগ : হলিউড প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট এক্স-মেন

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬


৮৬ বছর বয়সে মারা গেছেন প্রফেসর এক্সখ্যাত প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট

প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

শেক্সপিয়ারের কালজয়ী নাটকের মঞ্চ থেকে হলিউডের জনপ্রিয় বিজ্ঞান কল্পকাহিনিনির্ভর চলচ্চিত্র—অভিনয়ের বিচিত্র জগতে ছয় দশকের বেশি সময় ধরে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন ব্রিটিশ অভিনেতা প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট। ‘স্টার ট্রেক’-এর ক্যাপ্টেন জ্যাঁ-লুক পিকার্ড এবং ‘এক্স-মেন’-এর প্রফেসর চার্লস জেভিয়ার চরিত্রে বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই অভিনেতা আর নেই। ৮৬ বছর বয়সে মারা গেছেন তিনি।

গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজ বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট। বৃহস্পতিবার তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।

বিবৃতিতে জানানো হয়, আলঝেইমার রোগ ও লিউই বডি ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন এই অভিনেতা। শেষ সময় স্ত্রী সানি ওজেল তার পাশে ছিলেন। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে সংগীত, প্রার্থনা, হাসি-কান্না এবং ভালোবাসার পরিবেশে কেটেছে তার জীবনের শেষ দিনগুলো।

১৯৪০ সালের ১৩ জুলাই ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারের মিরফিল্ডে জন্মগ্রহণ করেন প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট। সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা এই অভিনেতার ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল। বিশেষ করে উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের নাটক তার মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। অভিনয়ের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শেষে তিনি যুক্ত হন ব্রিটেনের মর্যাদাপূর্ণ রয়্যাল শেক্সপিয়ার কোম্পানিতে। সেখানে ১৪ বছর কাজ করে মঞ্চাভিনেতা হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

দীর্ঘদিন মঞ্চে কাজ করলেও আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে তার পরিচিতি আসে টেলিভিশনের মাধ্যমে। ১৯৮৭ সালে শুরু হওয়া ‘স্টার ট্রেক: দ্য নেক্সট জেনারেশন’ ধারাবাহিকে ক্যাপ্টেন জ্যাঁ-লুক পিকার্ডের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। তখন তার বয়স ছিল ৪৭ বছর।

১৯৮৭ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত সাত মৌসুমে প্রচারিত ধারাবাহিকটি তাকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা এনে দেয়। পরবর্তী সময়ে ‘স্টার ট্রেক’ ফ্র্যাঞ্চাইজির একাধিক চলচ্চিত্রেও একই চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে তার পরিচিতির বড় অংশজুড়ে রয়েছে ‘এক্স-মেন’ সিরিজ। ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া প্রথম ‘এক্স-মেন’ চলচ্চিত্রে অধ্যাপক চার্লস জেভিয়ার বা প্রফেসর এক্স চরিত্রে অভিনয় করেন স্টুয়ার্ট। অতিমানবীয় ক্ষমতাসম্পন্ন মিউট্যান্টদের নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্র সিরিজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিল এটি।

পরবর্তী সময়ে সিরিজের আরও কয়েকটি চলচ্চিত্রে তাকে দেখা গেছে। ২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘লোগান’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন তিনি। এ ছাড়া মার্ভেলের আসন্ন ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ চলচ্চিত্রেও তার উপস্থিতির কথা জানা গেছে।

বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এলেও স্টুয়ার্টের অভিনয়জীবনের বড় সময় কেটেছে থিয়েটারে। শেক্সপিয়ারের নাটকে ক্লডিয়াস থেকে ম্যাকবেথসহ বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। পাশাপাশি চার্লস ডিকেন্সের ‘এ ক্রিসমাস ক্যারল’ নাটক একক অভিনয়ে মঞ্চস্থ করতেন।

ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও অভিনেতা ইয়ান ম্যাককেলেনের সঙ্গে হ্যারল্ড পিন্টারের ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ এবং স্যামুয়েল বেকেটের ‘ওয়েটিং ফর গডো’ নাটকেও অভিনয় করেছেন। ওয়েস্ট এন্ড ও ব্রডওয়েতে মঞ্চস্থ হয়েছিল নাটক দুটি।

অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনটি অলিভিয়ে পুরস্কার পেয়েছেন স্টুয়ার্ট। এর মধ্যে একটি ছিল ডেভিড টেন্যান্টের বিপরীতে ‘হ্যামলেট’ নাটকে ক্লডিয়াস চরিত্রে অভিনয়ের জন্য। ১৯৯৬ সালে ‘পিটার অ্যান্ড দ্য উলফ’ অডিও রেকর্ডিংয়ের জন্য সেরা কথ্য অ্যালবাম বিভাগে গ্র্যামি পুরস্কারও অর্জন করেন তিনি।

তার অভিনয়জীবনের অন্যতম প্রশংসিত কাজ ছিল ম্যাকবেথ চরিত্রে অভিনয়। রুপার্ট গুল্ডের পরিচালনায় নাটকটির প্রথম মঞ্চায়ন হয় ২০০৭ সালের মে মাসে ইংল্যান্ডের চিচেস্টার ফেস্টিভ্যাল থিয়েটারে। পরে লন্ডনের ওয়েস্ট এন্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিন একাডেমি অব মিউজিকে প্রদর্শিত হয় এটি। ২০০৮ সালে নাটকটি ব্রডওয়েতে স্থানান্তরিত হয়।

এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ক্যারিয়ারের একমাত্র টনি অ্যাওয়ার্ড মনোনয়ন পেয়েছিলেন স্টুয়ার্ট। তার অভিনয় নিয়ে দ্য টাইমস অব লন্ডন লিখেছিল, তার ম্যাকবেথ চরিত্রটি ছিল ‘দুর্বলতা, আকাঙ্ক্ষা, আত্মম্ভরিতা ও বিষণ্ন রসবোধের এক মুগ্ধকর সৃষ্টি’। দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ তার অভিনয়কে অভিহিত করেছিল ‘সত্যিকার অর্থেই অসাধারণ অভিনয়’ হিসেবে। অন্যদিকে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস নাটকটিকে বলেছিল ‘অবশ্যই দেখার মতো’।

২০০৮ সালে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাকবেথ চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে স্টুয়ার্ট বলেছিলেন, ‘প্রায় ৫০ বছর ধরে আমি এই চরিত্রে অভিনয়ের অপেক্ষা করেছি। ১৪ বছর বয়সে নাটকটি শিখেছিলাম। শুধু সংলাপগুলো অসাধারণ মনে হয়েছিল বলেই সব স্বগতোক্তি মুখস্থ করে ফেলেছিলাম। সেগুলো আমার মনে গেঁথে গিয়েছিল। ফলে নাটকের ওই অংশগুলো আর নতুন করে শিখতে হয়নি। এটা ছিল আশীর্বাদের মতো। কারণ, এখন সংলাপ মুখস্থ করাই এই পেশার সবচেয়ে বড় অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

প্যাট্রিক স্টুয়ার্টের মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহকর্মী ইয়ান ম্যাককেলেন। বন্ধুকে স্মরণ করে তিনি লিখেছেন, ‘তিনি নিজের অনুভূতি কখনো আড়াল করতেন না। এ কারণেই তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যার ওপর নির্ভর করা যায়, যাকে শ্রদ্ধা করা যায় এবং আমার ক্ষেত্রে যাকে ভালোবাসা যায়।’

‘স্টার ট্রেক’ সিরিজের অভিনেতা উইলিয়াম শ্যাটনারও স্টুয়ার্টের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন। তার প্রজ্ঞা, সৌজন্য ও মানবিকতার কথা স্মরণ করেছেন তিনি। অন্যদিকে ‘এক্স-মেন’ সিরিজে তার সহশিল্পী হিউ জ্যাকম্যান স্টুয়ার্টকে মঞ্চ ও পর্দার অন্যতম সেরা অভিনয়শিল্পী হিসেবে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। মার্ভেল স্টুডিওসও তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

অভিনয়ের বাইরেও মানবাধিকার, পারিবারিক সহিংসতার শিকার মানুষ, শরণার্থী এবং প্রাণিকল্যাণের পক্ষে কাজ করেছেন স্টুয়ার্ট। মঞ্চ ও পর্দায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১০ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন। এরপর থেকে নামের আগে যুক্ত হয় ‘স্যার’।

ব্যক্তিজীবনে ২০১৩ সালে সংগীতশিল্পী সানি ওজেলকে বিয়ে করেন তিনি। মৃত্যুকালে স্ত্রী ছাড়াও আগের সংসারের দুই সন্তান ড্যানিয়েল ও সোফিকে রেখে গেছেন এই অভিনেতা।

ক্যাপ্টেন পিকার্ড, প্রফেসর এক্স কিংবা শেক্সপিয়ারের ম্যাকবেথ—বিভিন্ন সময়ের ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট প্রমাণ করেছিলেন অভিনয়ের গভীরতা কোনো নির্দিষ্ট ঘরানায় সীমাবদ্ধ নয়। তার দীর্ঘ অভিনয়জীবনের সেই বৈচিত্র্যই তাকে দর্শকের কাছে স্মরণীয় করে রাখবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ