জাপানে চার দিনের সফল রাষ্ট্রীয় সফর শেষে ঢাকায় ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিশেষ ভিভিআইপি ফ্লাইটের যান্ত্রিক ত্রুটি দুই ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সারিয়ে তোলা সম্ভব হয়নি। এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গী উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বিমান থেকে নেমে পুনরায় বিমানবন্দরের লাউঞ্জে অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে ফ্লাইটের অন্য সাধারণ যাত্রীদেরও নিরাপদে বিমান থেকে নামিয়ে নারিতা বিমানবন্দরের ট্রানজিট লাউঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটির (বিজি-৩৭৭) ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়নের কথা ছিল।
তবে বোর্ডিং ও পুশব্যাক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত উড্ডয়ন সময়ের প্রায় ৪০ মিনিট পর ককপিট থেকে ফ্লাইটের প্রধান পাইলট ইমামুল যাত্রীদের উদ্দেশে যান্ত্রিক ত্রুটির কথা ঘোষণা করেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিলম্বের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করেন। পরবর্তীতে কন্ট্রোল টাওয়ারের নির্দেশনায় উড়োজাহাজটিকে রানওয়ের ট্যাক্সিওয়ে থেকে টারমাকের নিরাপদ পার্কিং বে-তে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
পাইলট ইমামুল জানিয়েছেন, উড়োজাহাজের উইং স্পয়লারে দেখা দেওয়া কারিগরি ত্রুটি মেরামতে বিমানের প্রকৌশলীরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ত্রুটি পুরোপুরি সারিয়ে উড়োজাহাজটিকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত ও উড্ডয়নযোগ্য অবস্থায় আনতে আরও আনুমানিক দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পরই নতুন করে উড্ডয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বিশেষ আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গত ২৬ অক্টোবর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে টোকিও পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই অত্যন্ত ফলপ্রসূ সফরে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন। পাশাপাশি জাপানের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি শিল্প গ্রুপ, বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে একাধিক যৌথ বৈঠকে মিলিত হন।
সফরকালে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ সুরক্ষার বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, আধুনিক কৃষি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিল্প খাতের মানোন্নয়ন সংক্রান্ত ৪টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), ২টি অনুদান চুক্তি ও ১টি অভিপ্রায়পত্রসহ মোট ৭টি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় দলিল স্বাক্ষরিত হয়। সফরের শেষ ভাগে টোকিওতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য মতবিনিময় ও নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।
মন্তব্যসমূহ