ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের ওপেনার সাদমান ইসলাম। তবে তাঁর শতরানের অপেক্ষার মধ্যেই শারীরিক সমস্যায় মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাওহীদ হৃদয়কে। ক্র্যাম্পের কারণে ৮৪ বলে ৪২ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে এ ঘটনা ঘটে।
হৃদয়ের মাঠ ছাড়ার সময় ৯৪ রানে অপরাজিত ছিলেন সাদমান। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ছয় রান দূরে থাকা এই বাঁহাতি ওপেনারের সঙ্গে ব্যাটিংয়ে যোগ দিয়েছেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস।
বাংলাদেশের ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শারীরিক অস্বস্তিতে পড়েন তাওহীদ হৃদয়।
ক্র্যাম্পের কারণে প্রথমে মাঠেই প্রাথমিক চিকিৎসা নেন তিনি। চিকিৎসা শেষে আবার ব্যাটিংয়ে ফেরার চেষ্টা করলেও বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি।
শেষ পর্যন্ত ৮৪ বলে ৪২ রান নিয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন হৃদয়।
তবে রিটায়ার্ড হার্ট হওয়ায় তাঁকে নিয়মিত আউট হিসেবে গণনা করা হয়নি। শারীরিক অবস্থা অনুকূলে থাকলে ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে আবার ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ রয়েছে তাঁর।
হৃদয়ের পরিবর্তে ক্রিজে নামেন লিটন দাস।
এর আগে প্রথম দিনের দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশ হারায় অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেট।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার জোমেল ওয়ারিকানের বলে সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন শান্ত।
প্রথমে আম্পায়ার আউটের আবেদন নাকচ করলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ রিভিউ নেয়। বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায়, বল প্যাডে লাগার পর স্টাম্পে আঘাত করত।
ফলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে শান্তকে আউট দেওয়া হয়।
৪২ বল মোকাবিলা করে ১৯ রান করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ইনিংসের ৩৫ দশমিক ৩ ওভারে তাঁর বিদায়ে তৃতীয় উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
এরপর সাদমান ইসলামের সঙ্গে ব্যাটিংয়ে যোগ দেন তাওহীদ হৃদয়।
শান্ত ফিরে যাওয়ার পর বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব নেন সাদমান ও হৃদয়।
এক প্রান্তে ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করেন সাদমান। অন্য প্রান্তে তুলনামূলক ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে রান সংগ্রহ করতে থাকেন হৃদয়।
দুজনের জুটিতে ৫৭ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ১৭১ রান। তখন সাদমান ৭৬ এবং হৃদয় ৩৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।
চা বিরতি পর্যন্ত এই জুটি আরও ৬ রান যোগ করে।
৫৯ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৭৭ রান। সাদমান ৭৯ এবং হৃদয় ৩৬ রানে অপরাজিত থেকে বিরতিতে যান।
দ্বিতীয় সেশনে এই দুই ব্যাটার মিলে ৬৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন।
মিরপুর টেস্টে শুরু থেকেই বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসা হয়ে ওঠেন ওপেনার সাদমান ইসলাম।
প্রথম সেশনে সতর্ক ব্যাটিংয়ের পর দ্বিতীয় সেশনে ক্যারিয়ারের দশম টেস্ট অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি।
৩৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ১০৯ রান। ওই সময় সাদমান ৫১ এবং শান্ত ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।
শান্তর বিদায়ের পরও নিজের ইনিংস ধরে রাখেন সাদমান।
হৃদয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত রানও এগিয়ে নেন তিনি।
সর্বশেষ উল্লেখিত পরিস্থিতিতে ৯৪ রানে অপরাজিত ছিলেন সাদমান। তাঁর সামনে টেস্ট ক্যারিয়ারে আরও একটি সেঞ্চুরি করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
তবে শুরুতেই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকে হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।
তানজিদ ৭ রান করে জেইডেন সিলসের বলে স্লিপে ক্যাচ দেন।
এরপর সাদমান ও মুমিনুল হক দ্বিতীয় উইকেটে ৫৯ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক চাপ সামাল দেন।
তবে মুমিনুলও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। জোমেল ওয়ারিকানের বলে শামার জোসেফের হাতে ক্যাচ দিয়ে ২৮ রানে ফিরে যান তিনি।
প্রথম সেশন শেষে ২৯ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৯৬ রান।
বিরতির পর শান্তর উইকেট হারালেও সাদমান ও হৃদয়ের ব্যাটিংয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বাংলাদেশ।
এই টেস্টে বাংলাদেশের একাদশে নেই অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম।
অনুশীলনে আঙুলে চোট পাওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট থেকে ছিটকে যান তিনি।
তাঁর জায়গায় একাদশে সুযোগ পান তাওহীদ হৃদয়।
সুযোগ পেয়ে ব্যাট হাতে ৪২ রান করলেও ক্র্যাম্পের কারণে ইনিংস চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি।
এদিকে সাদমানের ৯৪ রানের অপরাজিত ইনিংসে বড় সংগ্রহের আশা ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। এখন তাঁর সঙ্গে ক্রিজে রয়েছেন লিটন দাস।
মন্তব্যসমূহ