দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিনষ্ট করার অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে মানুষের স্বাভাবিক ক্ষোভ বা অসন্তোষ প্রকাশ করার পথও রুদ্ধ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীতে ফের ক্রসফায়ার সংস্কৃতির আশঙ্কা প্রকাশ করে বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) অবিলম্বে অপসারণের জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবরের সমাবেশ সফল করতে লিফলেট বিতরণকালে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতেই দেশের নির্বাচনী ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার তুলনা টেনে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, উত্তর কোরিয়ায় যেমন একক প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বাধ্য হয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে হয়, দেশেও এখন সাধারণ মানুষের অসন্তোষ প্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “এখন পরিস্থিতি এমন তৈরি হচ্ছে আমাদের এই সরকারের আমলে, যে মন খারাপ করার অধিকারও আপনার নেই। পকেটে টাকা নেই, মন খারাপ হয়েছে, এটাও আপনি বলতে পারবেন না। বললেও বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাবে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, বিগত আট মাসে সরকারের সমালোচনা ও মতামত প্রকাশের কারণে অন্তত ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগে সহনশীলতা ও দ্বিমতের স্বাধীনতার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা কার্যত নির্বাচনী কৌশলে রূপ নিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিতর্কিত মন্তব্য বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগকে ‘সরল বিশ্বাস’ বলে চালিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
পুলিশ বাহিনীকে দলীয়করণের ঊর্ধ্বে রাখার তাগিদ দিয়ে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, সাধারণ জনগণ এমন একটি পুলিশ বাহিনী প্রত্যাশা করে যারা আইনের ধারক ও বাহক হবে। অতীতের বিভিন্ন সরকারের আমলে পুলিশকে রাজনৈতিক লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহার করায় বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি অধস্তন কর্মকর্তা ও কনস্টেবলদের রাজনৈতিক সুবিধাভোগী শীর্ষ কর্মকর্তাদের অন্ধ আনুগত্য না করার আহ্বান জানান। তিনি বর্তমান আইজিপির নিয়োগ ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত তাঁর অপসারণের দাবি জানান।
বক্তব্যে তৃণমূলের রাজনৈতিক কর্মীদের দীর্ঘদিনের ত্যাগের অবমূল্যায়ন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বিগত বহু বছরের নিপীড়ন, মামলা-হামলার প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, রাজপথে সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা কর্মীরা বছরের পর বছর ত্যাগ স্বীকার করলেও সুযোগসন্ধানী ও প্রভাবশালী মহলের কাছে সেই আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন মেলে না। একজন সংসদ সদস্যের ছেলের হাতে সাধারণ কর্মী নিহত হওয়ার পর বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো আপস মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
মন্তব্যসমূহ