১৪৪ ধারা জারির মধ্যে হবিগঞ্জে প্রবেশের সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর আটকে দিয়েছে পুলিশ। এ সময় এনসিপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের বাদানুবাদ ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।বুধবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে প্রবেশের পথে সাতগাঁও এলাকায় গাড়িবহরটি থামিয়ে দেওয়া হয়।বহরে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা ছিলেন।[BANGVIEWS-POST:2744]পুলিশের বাধার পর ঘটনাস্থলে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে কথা-কাটাকাটি চলে। একই সময়ে হবিগঞ্জ শহরে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা তাদের দলীয় কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান নেন। এতে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।জেলা এনসিপির সদস্যসচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন জানান, আগের দিনের হামলার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় নেতাদের হবিগঞ্জে আসার কথা ছিল। তবে শহরে প্রবেশের আগেই পুলিশ তাদের আটকে দেয়।ছাত্রদলের এক নেতা দাবি করেন, ১৪৪ ধারা জারি থাকায় তারা কোনো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন না। তবে দলীয় নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান করছেন।এনসিপি ও ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি এম সরফরাজ হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেন।বুধবার সকাল থেকে টাউন হল, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সদর মডেল থানা, আদালত এলাকা, টাউন হল রোড, চৌধুরীবাজার, কালীবাড়ি রোড, রাজনগর ও শায়েস্তানগরসহ শহরের অন্তত ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।[BANGVIEWS-POST:2743]এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টাউন হল এলাকায় পথসভা শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ ওঠে।ঘটনার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ কয়েকজন নেতা সোনালী ব্যাংকের হবিগঞ্জ প্রধান শাখায় আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের নেতৃত্বে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে পৌঁছে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ একটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।হামলার জন্য ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করে সারজিস আলম দাবি করেন, ঘটনায় তাদের এক কর্মীর চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা এনসিপির নেতা মুবিনের হাত ভেঙেছে এবং তিনি নিজেও আঙুলে আঘাত পেয়েছেন।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদল বা পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।