প্রধানমন্ত্রীর আশপাশে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তীব্র সমালোচনা করে সংসদ সদস্য ও এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের লোকজনের পকেটে সবসময় ফিরতি ফ্লাইটের টিকিট থাকে। কোনো সংকট তৈরি হলেই তারা বিদেশে নিজেদের পুরোনো আশ্রয়ে ফিরে যাবেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, সরকারপ্রধানের আশপাশে বর্তমানে যেসব ব্যক্তি অবস্থান করছেন, তাদের অনেকেই দ্বৈত নাগরিক, কারও কারও কাছে বিদেশি পাসপোর্ট বা স্থায়ী ভিসা রয়েছে। বিশেষ করে লন্ডন থেকে এসে যুক্ত হওয়া বেশ কিছু ব্যক্তি নিজেরাই বিশ্বাস করেন যে বর্তমান প্রশাসন বেশি দিন টিকবে না। তিনি বলেন, সাধারণ ভোটাররা হয়তো পাঁচ বছরের লক্ষ্য নিয়ে ম্যান্ডেট দিয়েছিলেন, কিন্তু ক্ষমতাকেন্দ্রিক এই সুবিধাভোগীরা স্বল্পমেয়াদে ফায়দা লুটে আবার বিদেশে পাড়ি জমানোর প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছেন।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে দাবি করে তিনি উল্লেখ করেন, একজন প্রতিমন্ত্রীকে নিরাপত্তার জন্য ব্যক্তিগতভাবে অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামতে হচ্ছে—যা মূলত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চরম ব্যর্থতার প্রমাণ। দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায় যাদের ওপর, তাদের জবাবদিহির আওতায় না এনে সরকার আইওয়াশ ও জনদৃষ্টিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করে বলেন, মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে তিনি সাংবিধানিক শপথ ভঙ্গ করেছেন। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথাযথভাবে পরিচালনার পরিবর্তে ভিন্ন কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নে তিনি যুক্ত রয়েছেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন হাসনাত।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ও ঘুম নিয়েও আলোচনা করেন। হাসনাত বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাতে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমান এবং কুমড়ার ভর্তা বা সবজি খেয়ে দিন কাটান—যা প্রচার করে তাঁর চারপাশের সুবিধাভোগীরা তাঁকে এক অস্বাস্থ্যকর জীবনের বৃত্তে আটকে রাখছে। পর্যাপ্ত ঘুম ও পুষ্টির অভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি নির্ধারণ ও সূক্ষ্ম সিদ্ধান্তে ত্রুটি দেখা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীকে নানা কার্যক্রমে ব্যস্ত রেখে একটি বিশেষ সুবিধাভোগী গোষ্ঠী আড়ালে সুযোগ সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছে।
মন্তব্যসমূহ