ঢাকা    বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইনানীতে অগ্নিকাণ্ডে ১৫ কিমি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, চলাচলে বিধিনিষেধ

ইনানীতে অগ্নিকাণ্ডে ১৫ কিমি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, চলাচলে বিধিনিষেধ
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে গভীর নলকূপ খনন করতে গিয়ে ভূগর্ভ থেকে অবিরাম নির্গত গ্যাসে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড ৩৩ ঘণ্টা পার হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে টানা চেষ্টা চালালেও মাটির গভীর থেকে প্রচণ্ড চাপে গ্যাস বের হতে থাকায় আগুন নেভানো সম্ভব হচ্ছে না।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী ছোট খাল সেতুর কাছে মোহাম্মদ আবদুল্লাহর বসতভিটায় এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সেখানে আগুনের শিখা জ্বলতে দেখা যায়।

আগুনের লেলিহান শিখা সংলগ্ন উচ্চভোল্টেজ বৈদ্যুতিক তারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় মনখালী থেকে পাটোয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ওই এলাকার হোটেল-রিসোর্ট ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলের আশপাশের ২০০ মিটার এলাকাকে নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় নিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের আহ্বানে মঙ্গলবার রাতেই বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানির (বাপেক্স) দুই সদস্যের একটি ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) এস এম নাফিফুন আরহামের নেতৃত্বে দলটি গ্যাসের নির্গমন ও আগুনের তীব্রতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

বিশেষজ্ঞ দলের প্রাথমিক ধারণা, নলকূপটি খননের সময় প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে কোনো প্রাকৃতিক গ্যাসস্তরের কাছাকাছি পৌঁছানো হয়েছিল। সেখান থেকে ভূগর্ভস্থ চ্যুতি বা ফাটল দিয়ে গ্যাস ওপরে উঠে নলকূপের পাইপ দিয়ে বের হয়ে আসছে। কোনো ধরনের বাহ্যিক স্ফুলিঙ্গ থেকেই এ আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। বাপেক্সের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, গ্যাসের চাপ অত্যন্ত বেশি হওয়ায় সরাসরি পানি বা রাসায়নিক দিয়ে চাপ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলে ভূগর্ভের অন্য দুর্বল স্থান দিয়ে গ্যাস ছড়িয়ে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। আগুনের রঙ ও ধোঁয়া দেখে এতে ভারি হাইড্রোকার্বন থাকার সম্ভাবনা থাকলেও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার আগে গ্যাসের সঠিক উপাদান বা মজুতের পরিমাণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দলের নির্দেশনা ও পরামর্শ মেনেই ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ইনানীর পাটোয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে লোকালয়ে এই ভূগর্ভস্থ গ্যাসের আগুন ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ট্যাগ : ইনানী গ্যাস আগুন উখিয়া নলকূপ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


ইনানীতে অগ্নিকাণ্ডে ১৫ কিমি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, চলাচলে বিধিনিষেধ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে গভীর নলকূপ খনন করতে গিয়ে ভূগর্ভ থেকে অবিরাম নির্গত গ্যাসে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড ৩৩ ঘণ্টা পার হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে টানা চেষ্টা চালালেও মাটির গভীর থেকে প্রচণ্ড চাপে গ্যাস বের হতে থাকায় আগুন নেভানো সম্ভব হচ্ছে না।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী ছোট খাল সেতুর কাছে মোহাম্মদ আবদুল্লাহর বসতভিটায় এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সেখানে আগুনের শিখা জ্বলতে দেখা যায়।

আগুনের লেলিহান শিখা সংলগ্ন উচ্চভোল্টেজ বৈদ্যুতিক তারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় মনখালী থেকে পাটোয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ওই এলাকার হোটেল-রিসোর্ট ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলের আশপাশের ২০০ মিটার এলাকাকে নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় নিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের আহ্বানে মঙ্গলবার রাতেই বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানির (বাপেক্স) দুই সদস্যের একটি ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) এস এম নাফিফুন আরহামের নেতৃত্বে দলটি গ্যাসের নির্গমন ও আগুনের তীব্রতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

বিশেষজ্ঞ দলের প্রাথমিক ধারণা, নলকূপটি খননের সময় প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে কোনো প্রাকৃতিক গ্যাসস্তরের কাছাকাছি পৌঁছানো হয়েছিল। সেখান থেকে ভূগর্ভস্থ চ্যুতি বা ফাটল দিয়ে গ্যাস ওপরে উঠে নলকূপের পাইপ দিয়ে বের হয়ে আসছে। কোনো ধরনের বাহ্যিক স্ফুলিঙ্গ থেকেই এ আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। বাপেক্সের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, গ্যাসের চাপ অত্যন্ত বেশি হওয়ায় সরাসরি পানি বা রাসায়নিক দিয়ে চাপ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলে ভূগর্ভের অন্য দুর্বল স্থান দিয়ে গ্যাস ছড়িয়ে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। আগুনের রঙ ও ধোঁয়া দেখে এতে ভারি হাইড্রোকার্বন থাকার সম্ভাবনা থাকলেও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার আগে গ্যাসের সঠিক উপাদান বা মজুতের পরিমাণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দলের নির্দেশনা ও পরামর্শ মেনেই ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ইনানীর পাটোয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে লোকালয়ে এই ভূগর্ভস্থ গ্যাসের আগুন ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ