সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে ইসরায়েলি দূতাবাসের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্যের ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালিয়েছে এক ব্যক্তি। এ সময় আত্মরক্ষার্থে নিরাপত্তাকর্মীর ছোড়া গুলিতে ঘটনাস্থলেই হামলাকারী নিহত হন। হামলায় পুলিশ সদস্যও সামান্য আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পর এ ঘটনা ঘটে। সার্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভিচা দাচিচ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সার্বিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার সময় ইসরায়েলি দূতাবাসের বাইরে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন দেশটির জেন্ডারমেরি বাহিনীর এক সদস্য।
এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি দুটি ছুরি নিয়ে তাঁর ওপর আক্রমণ চালান।
বেলগ্রেডের উচ্চতর সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কালো পোশাক পরা ওই ব্যক্তি দূতাবাসের সামনের নিরাপত্তাচৌকির দরজা খুলে পুলিশ সদস্যের দিকে এগিয়ে যান।
একপর্যায়ে তিনি একটি ছুরি ছুড়ে মারলে সেটি নিরাপত্তাকর্মীর বাঁ গালে লাগে।
এরপর আক্রান্ত পুলিশ সদস্য তাঁর সরকারি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে হামলাকারীকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি চালান। এতে ঘটনাস্থলেই হামলাকারীর মৃত্যু হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুলিশ সদস্যের গুলি চালানোর ঘটনাটি আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
সার্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভিচা দাচিচ জানিয়েছেন, নিহত হামলাকারীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারী অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন এবং সার্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শাবাচ শহরের বাসিন্দা হতে পারেন।
তবে তাঁর বয়স ও পরিচয় সম্পর্কে চূড়ান্ত নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় ওই ব্যক্তি ধর্মীয় স্লোগান দিচ্ছিলেন।
দাচিচ আরও দাবি করেন, সার্বিয়ার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আগে থেকেই হামলাকারীর ওপর নজর রাখছিল।
তাঁর অভিযোগ, ওই ব্যক্তি জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সমর্থক ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠনটির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছিলেন।
তবে হামলাকারীর সঙ্গে কোনো সংগঠনের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল কি না, তা তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করছে সার্বিয়ার পুলিশ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভিচা দাচিচ জানিয়েছেন, হামলার পর দেশজুড়ে সন্ত্রাসী হুমকির সতর্কতার মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সংবেদনশীল এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।
হামলার উদ্দেশ্য এবং নিহত ব্যক্তির সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার সময় দূতাবাসটি বন্ধ ছিল।
বেলগ্রেডে ইসরায়েলি দূতাবাসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এ ঘটনায় আহত হননি।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হামলাকারীকে প্রতিহত করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত করছে।
বেলগ্রেডে ইসরায়েলি দূতাবাসের নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর হামলার ঘটনা এবারই প্রথম নয়।
২০২৪ সালের জুনেও একই দূতাবাসের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক সার্বীয় পুলিশ সদস্যের ওপর ক্রসবো দিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল।
ওই ঘটনায় হামলাকারীর ছোড়া তির পুলিশ সদস্যের গলায় লাগে এবং তিনি আহত হন।
পরে নিরাপত্তারক্ষীর পাল্টা গুলিতে সেই হামলাকারী নিহত হন।
দুই বছরের ব্যবধানে একই দূতাবাসের সামনে আবারও হামলার ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সার্বিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবারের ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হামলাকারীর পূর্ণ পরিচয় ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ