চট্টগ্রামের আলোচিত মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে দুটি হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর মধ্যে বাকলিয়া থানায় করা জোড়া হত্যা মামলায় পাঁচ দিন এবং বায়েজিদ বোস্তামী থানার সরোয়ার বাবলা হত্যা মামলায় দুই দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কঠোর নিরাপত্তায় চট্টগ্রাম কারাগার থেকে ডেভিড ইমনকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে শুনানি শেষে পৃথক দুই মামলায় তাঁর রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপপুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী।
২০২৫ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় সরোয়ার বাবলা নামের আরেক আলোচিত ব্যক্তিকে বহনকারী একটি প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
ওই হামলায় সরোয়ার বাবলা প্রাণে বেঁচে গেলেও দুজন নিহত হন। এ ঘটনায় বাকলিয়া থানায় জোড়া হত্যা মামলা করা হয়।
মামলার তদন্তে ডেভিড ইমনকে হামলার অন্যতম সমন্বয়কারী ও আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এই মামলায় তাঁর সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে জানতে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তবে মামলায় আসামি হওয়া বা রিমান্ড মঞ্জুরের অর্থ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
বাকলিয়ার জোড়া হত্যা মামলার পাশাপাশি বায়েজিদ বোস্তামী থানার আরেকটি হত্যা মামলায়ও ডেভিড ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে পুলিশ।
২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার ওয়াজেদিয়ায় গণসংযোগ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন সরোয়ার বাবলা।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহর সঙ্গে গণসংযোগে অংশ নিয়েছিলেন। এ সময় তাঁর পিঠে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করা হয়।
হামলায় সরোয়ার বাবলা নিহত হন। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন এরশাদ উল্লাহ।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামী থানায় করা মামলায় ডেভিড ইমনকে দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।
ফলে পৃথক দুই মামলায় নতুন করে মোট সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হলো তাঁর।
এর আগে গত ২৯ জুলাই রাতে ভারত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ওই অভিযানে তাঁর সঙ্গে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, ডেভিড ইমন বিদেশে পলাতক আলোচিত অপরাধী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির ঘটনায় তাঁর নাম একাধিক মামলায় এসেছে।
গ্রেপ্তারের পর ডেভিড ইমনকে বিভিন্ন মামলায় আদালতে হাজির করা হয়েছে।
গত ২ আগস্ট ফটিকছড়ি থানার একটি হত্যা ও একটি অস্ত্র মামলায় তাঁকে মোট ১০ দিনের রিমান্ড দেন আদালত। দুটি মামলায় পাঁচ দিন করে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়।
পরে ১২ আগস্ট হাটহাজারী থানার একটি চাঁদাবাজির মামলায়ও পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছিল।
এবার বাকলিয়ার জোড়া হত্যা এবং বায়েজিদ বোস্তামী থানার সরোয়ার বাবলা হত্যা মামলায় আরও সাত দিনের রিমান্ড দেওয়া হলো।
পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের এই আদেশের মাধ্যমে দুটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ডেভিড ইমনকে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ