ঢাকা    বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইসরায়েলে ভোট গণনা যত বাড়ছে, তত কমছে নেতানিয়াহুর ভোটের হার

ইসরায়েলে ভোট গণনা যত বাড়ছে, তত কমছে নেতানিয়াহুর ভোটের হার
ফাইল ছবি
ফলো করুন

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রাথমিক ভোট গণনায় এগিয়ে থাকলেও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির প্রাপ্ত ভোটের হার কমেছে। অন্যদিকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার পার্টির ভোটের হার কিছুটা বেড়েছে। এখন পর্যন্ত ২১ লাখের বেশি ভোট গণনা করা হলেও নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল এবং সরকার গঠনের সমীকরণ এখনো স্পষ্ট হয়নি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যের বরাতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রাথমিক হিসাবে, মোট বৈধ ভোটের ২১ দশমিক ৭০ শতাংশ পেয়ে প্রথম অবস্থানে রয়েছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। এর আগের গণনার হালনাগাদ তথ্যে দলটির ভোটের হার ছিল ২৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।

অর্থাৎ, নতুন করে ভোট গণনার পর লিকুদের প্রাপ্ত ভোটের হার ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। তবে দলটি এখনো একক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার পার্টি প্রাথমিক গণনায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

দলটি এখন পর্যন্ত মোট বৈধ ভোটের ১৫ দশমিক ৭২ শতাংশ পেয়েছে। এর আগে প্রকাশিত হিসাবে ইয়াশারের ভোটের হার ছিল ১৫ দশমিক ৪১ শতাংশ।

ফলে নতুন হিসাবে দলটির ভোটের হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩১ শতাংশ পয়েন্ট।

নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এখনো এগিয়ে থাকলেও ভোট গণনার অগ্রগতির সঙ্গে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রাপ্ত ভোটের হারে পরিবর্তন আসছে।

তবে ভোটের হার কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে লিকুদের ইতোমধ্যে পাওয়া ভোটের সংখ্যা কমে গেছে। নতুন ভোট গণনার পর মোট বৈধ ভোটের অনুপাতে দলটির অংশ কমেছে।

এবারের নির্বাচনে ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি রাজনৈতিক দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্টও উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসাবে, জোটটি মোট বৈধ ভোটের ৯ দশমিক ২২ শতাংশ পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের দলের প্রাপ্ত ভোটের হার ৮ দশমিক ২২ শতাংশ।

এই হিসাবে বেনেটের দলকে পেছনে ফেলেছে জয়েন্ট লিস্ট।

প্রাথমিক ভোট গণনায় ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি রাজনৈতিক জোটের এই অবস্থান নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে মোট ১২০টি আসন রয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন।

নির্বাচনের পর প্রকাশিত বুথফেরত জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট এবং আইজেনকটের বিরোধী শিবিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যায়।

তবে কোনো পক্ষই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের নিশ্চয়তা পায়নি।

এ অবস্থায় আনুষ্ঠানিক ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর দলগুলোর আসনসংখ্যা এবং সম্ভাব্য জোট গঠনের সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বিশেষ করে ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি দলগুলোর অবস্থান এবং নির্বাচিত অন্য রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সমর্থন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৭৩ লাখ ৩০ হাজার।

এর মধ্যে ৫৬ লাখ ৯০ হাজারের বেশি ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর বুধবার পর্যন্ত ২১ লাখের বেশি ভোটের হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রকাশিত সব তথ্য প্রাথমিক। ভোট গণনা এখনো চলমান থাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের হার ও সম্ভাব্য আসনসংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে।

নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি একক দল হিসেবে শীর্ষে থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক জোট সরকার গঠন করতে পারবে, তা নির্ভর করবে পূর্ণাঙ্গ ভোট গণনা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর।

সূত্র: আল জাজিরা।

ট্যাগ : বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েল নির্বাচন

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


ইসরায়েলে ভোট গণনা যত বাড়ছে, তত কমছে নেতানিয়াহুর ভোটের হার

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রাথমিক ভোট গণনায় এগিয়ে থাকলেও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির প্রাপ্ত ভোটের হার কমেছে। অন্যদিকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার পার্টির ভোটের হার কিছুটা বেড়েছে। এখন পর্যন্ত ২১ লাখের বেশি ভোট গণনা করা হলেও নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল এবং সরকার গঠনের সমীকরণ এখনো স্পষ্ট হয়নি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যের বরাতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রাথমিক হিসাবে, মোট বৈধ ভোটের ২১ দশমিক ৭০ শতাংশ পেয়ে প্রথম অবস্থানে রয়েছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। এর আগের গণনার হালনাগাদ তথ্যে দলটির ভোটের হার ছিল ২৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।

অর্থাৎ, নতুন করে ভোট গণনার পর লিকুদের প্রাপ্ত ভোটের হার ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। তবে দলটি এখনো একক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার পার্টি প্রাথমিক গণনায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

দলটি এখন পর্যন্ত মোট বৈধ ভোটের ১৫ দশমিক ৭২ শতাংশ পেয়েছে। এর আগে প্রকাশিত হিসাবে ইয়াশারের ভোটের হার ছিল ১৫ দশমিক ৪১ শতাংশ।

ফলে নতুন হিসাবে দলটির ভোটের হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩১ শতাংশ পয়েন্ট।

নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এখনো এগিয়ে থাকলেও ভোট গণনার অগ্রগতির সঙ্গে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রাপ্ত ভোটের হারে পরিবর্তন আসছে।

তবে ভোটের হার কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে লিকুদের ইতোমধ্যে পাওয়া ভোটের সংখ্যা কমে গেছে। নতুন ভোট গণনার পর মোট বৈধ ভোটের অনুপাতে দলটির অংশ কমেছে।

এবারের নির্বাচনে ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি রাজনৈতিক দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্টও উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসাবে, জোটটি মোট বৈধ ভোটের ৯ দশমিক ২২ শতাংশ পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের দলের প্রাপ্ত ভোটের হার ৮ দশমিক ২২ শতাংশ।

এই হিসাবে বেনেটের দলকে পেছনে ফেলেছে জয়েন্ট লিস্ট।

প্রাথমিক ভোট গণনায় ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি রাজনৈতিক জোটের এই অবস্থান নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে মোট ১২০টি আসন রয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন।

নির্বাচনের পর প্রকাশিত বুথফেরত জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট এবং আইজেনকটের বিরোধী শিবিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যায়।

তবে কোনো পক্ষই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের নিশ্চয়তা পায়নি।

এ অবস্থায় আনুষ্ঠানিক ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর দলগুলোর আসনসংখ্যা এবং সম্ভাব্য জোট গঠনের সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বিশেষ করে ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি দলগুলোর অবস্থান এবং নির্বাচিত অন্য রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সমর্থন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৭৩ লাখ ৩০ হাজার।

এর মধ্যে ৫৬ লাখ ৯০ হাজারের বেশি ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর বুধবার পর্যন্ত ২১ লাখের বেশি ভোটের হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রকাশিত সব তথ্য প্রাথমিক। ভোট গণনা এখনো চলমান থাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের হার ও সম্ভাব্য আসনসংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে।

নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি একক দল হিসেবে শীর্ষে থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক জোট সরকার গঠন করতে পারবে, তা নির্ভর করবে পূর্ণাঙ্গ ভোট গণনা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর।

সূত্র: আল জাজিরা।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ