ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি ভোট গণনার পরও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট আসনসংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারছে না। প্রাথমিক হিসাবের একটি পর্যায়ে জোটটি ৫৫টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন আরও ছয়টি আসন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রকাশিত আংশিক ফলাফলের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাও ভোট গণনার অগ্রগতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোট গণনার ওই পর্যায়ে প্রায় ২৮ লাখ ভোটের হিসাব পাওয়া যায়। তখন বিভিন্ন দলের ভোটের হার ও সম্ভাব্য আসনসংখ্যা নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়।
আংশিক ফলাফলের ভিত্তিতে একটি পর্যায়ে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ৫৫টিতে।
অন্যদিকে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৯টি আসন এবং আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলো ১৬টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন।
সে হিসাবে নেতানিয়াহুর জোট প্রথম অবস্থানে থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসনসংখ্যা অর্জন করতে পারেনি।
বিরোধী জোটও এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থানে নেই।
তাই ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জোট গঠনের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
দলভিত্তিক ভোটের হিসাবে এখনো শীর্ষে রয়েছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি।
সরবরাহকৃত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা গণনার পর্যায়ে দলটির প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল ২০ দশমিক ৭ শতাংশ।
এর আগে গণনার প্রাথমিক পর্যায়ে লিকুদের ভোটের হার ছিল ২৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। পরবর্তী হিসাবে তা কমে ২১ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়ায়।
সর্বশেষ উল্লেখিত হিসাবে হারটি আরও কমে ২০ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে আসে।
অর্থাৎ, নতুন ভোট গণনার সঙ্গে মোট বৈধ ভোটের অনুপাতে লিকুদের অংশ কমেছে। তবে এর অর্থ দলটির ইতোমধ্যে পাওয়া ভোটের সংখ্যা কমে গেছে, এমন নয়।
অন্যদিকে গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টির প্রাপ্ত ভোটের হার বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখিত পর্যায়ে দলটি ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন ‘টুগেদার’ জোট ৯ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বলে ওই হিসাবে জানানো হয়।
প্রাথমিক গণনায় ভোটের হারে পরিবর্তন আসায় বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য আসনসংখ্যাও ওঠানামা করছে।
নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন দুই প্রধান রাজনৈতিক জোটের কেউই প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের নিশ্চয়তা না পাওয়ায় আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সম্ভাব্য আসনসংখ্যা আলোচনায় এসেছে।
গণনার একটি পর্যায়ে এসব দলের সম্মিলিতভাবে ১৬টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়।
তবে কোনো জোট সরকার গঠনে তাদের সমর্থন পাবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর দলগুলোর আসনসংখ্যা এবং পারস্পরিক রাজনৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতেই পরবর্তী সরকার গঠনের সমীকরণ নির্ধারিত হবে।
এদিকে বুধবার সকালে আরও কিছু ভোট গণনার পর দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের আরেকটি হালনাগাদে নেতানিয়াহুর জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫৬টি দেখানো হয়েছে।
ওই হিসাবে বিরোধী জোটের ৪৯টি এবং আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর ১৫টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফলে ৫৫ আসনের হিসাবটি দিনের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ের পূর্বাভাস, চূড়ান্ত ফল নয়।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট গণনা এখনো চলছে। সব ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের হার ও সম্ভাব্য আসনসংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে।
সব মিলিয়ে লিকুদ একক দল হিসেবে এগিয়ে থাকলেও নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।
মন্তব্যসমূহ