ঢাকা    বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা, শিশুসহ চার ফিলিস্তিনির মৃত্যু

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা, শিশুসহ চার ফিলিস্তিনির মৃত্যু
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ও গোলাগুলিতে প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আগের হামলায় আহত ছয় বছরের এক শিশুসহ আরও দুজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) চিকিৎসা ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।

সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন হামলায় নিহত দুজন এবং আগের হামলায় আহত হয়ে মারা যাওয়া দুজনকে মিলিয়ে মঙ্গলবার গাজায় মোট চার ফিলিস্তিনির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে মাহমুদ সামিহ আল-হারশ নামের ২৮ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের আল-হাওজা সড়কে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

অন্যদিকে দক্ষিণ গাজার রাফাহ এলাকার আল-মাওয়াসিতে পৃথক একটি হামলায় আরও একজন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

আল-আলম গোলচত্বরের কাছে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ওই ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। হামলার পর তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গাজার খান ইউনিসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ছয় বছর বয়সী তাহানি মোহাম্মদ সাঈদ শালালফেহ।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে আহত হয়েছিল শিশুটি।

আহত অবস্থায় চিকিৎসা চললেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে চিকিৎসা সূত্র।

ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফাও শিশুটির মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে।

এদিকে কয়েক দিন আগে গাজা শহরের কেন্দ্রস্থলে আল-থাওরা সড়কে ইসরায়েলি হামলায় আহত আহমেদ ইয়াসিন বিসেইসোও মারা গেছেন।

ফলে মঙ্গলবারের নতুন হামলায় নিহত দুজনের পাশাপাশি পুরোনো হামলায় আহত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস উপকূলে ইসরায়েলি ড্রোন থেকে ফেলা একটি বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে এক ফিলিস্তিনি জেলে আহত হয়েছেন।

গাজার সিভিল ডিফেন্স সূত্রের বরাতে আনাদোলু জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানকালে তিনি আহত হন।

এ ছাড়া খান ইউনিসের কিজান রাশওয়ান এবং হামাদ সিটির পূর্বাঞ্চলে পৃথক দুটি ঘটনায় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে আরও দুজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।

মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের পূর্বাঞ্চলেও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

আল-আওদা হাসপাতালের চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে দুজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে।

সব মিলিয়ে মঙ্গলবারের পৃথক ঘটনায় পাঁচজন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু।

গাজা শহরের পশ্চিমে আল-শাতি শরণার্থী শিবিরসংলগ্ন সমুদ্রসৈকতেও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সৈকতে অবস্থানরত ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি নৌযান থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়। একই সঙ্গে মেশিনগান থেকেও গুলি চালানো হয়েছে।

তবে এই ঘটনায় আলাদাভাবে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উপত্যকাজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে।

আনাদোলুর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর এ পর্যন্ত ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

একই সময়ে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

২০২৫ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে এরপরও বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে।

আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজা উপত্যকায় দেড় হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবারের ঘটনাগুলোও যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ঘটেছে।

তবে নতুন হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কোনো বক্তব্য আনাদোলুর ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।

ট্যাগ : ফিলিস্তিন মধ্যপ্রাচ্য গাজা ইসরায়েল

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা, শিশুসহ চার ফিলিস্তিনির মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ও গোলাগুলিতে প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আগের হামলায় আহত ছয় বছরের এক শিশুসহ আরও দুজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) চিকিৎসা ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।

সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন হামলায় নিহত দুজন এবং আগের হামলায় আহত হয়ে মারা যাওয়া দুজনকে মিলিয়ে মঙ্গলবার গাজায় মোট চার ফিলিস্তিনির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে মাহমুদ সামিহ আল-হারশ নামের ২৮ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের আল-হাওজা সড়কে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

অন্যদিকে দক্ষিণ গাজার রাফাহ এলাকার আল-মাওয়াসিতে পৃথক একটি হামলায় আরও একজন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

আল-আলম গোলচত্বরের কাছে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ওই ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। হামলার পর তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গাজার খান ইউনিসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ছয় বছর বয়সী তাহানি মোহাম্মদ সাঈদ শালালফেহ।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে আহত হয়েছিল শিশুটি।

আহত অবস্থায় চিকিৎসা চললেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে চিকিৎসা সূত্র।

ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফাও শিশুটির মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে।

এদিকে কয়েক দিন আগে গাজা শহরের কেন্দ্রস্থলে আল-থাওরা সড়কে ইসরায়েলি হামলায় আহত আহমেদ ইয়াসিন বিসেইসোও মারা গেছেন।

ফলে মঙ্গলবারের নতুন হামলায় নিহত দুজনের পাশাপাশি পুরোনো হামলায় আহত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস উপকূলে ইসরায়েলি ড্রোন থেকে ফেলা একটি বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে এক ফিলিস্তিনি জেলে আহত হয়েছেন।

গাজার সিভিল ডিফেন্স সূত্রের বরাতে আনাদোলু জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানকালে তিনি আহত হন।

এ ছাড়া খান ইউনিসের কিজান রাশওয়ান এবং হামাদ সিটির পূর্বাঞ্চলে পৃথক দুটি ঘটনায় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে আরও দুজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।

মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের পূর্বাঞ্চলেও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

আল-আওদা হাসপাতালের চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে দুজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে।

সব মিলিয়ে মঙ্গলবারের পৃথক ঘটনায় পাঁচজন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু।

গাজা শহরের পশ্চিমে আল-শাতি শরণার্থী শিবিরসংলগ্ন সমুদ্রসৈকতেও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সৈকতে অবস্থানরত ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি নৌযান থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়। একই সঙ্গে মেশিনগান থেকেও গুলি চালানো হয়েছে।

তবে এই ঘটনায় আলাদাভাবে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উপত্যকাজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে।

আনাদোলুর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর এ পর্যন্ত ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

একই সময়ে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

২০২৫ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে এরপরও বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে।

আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজা উপত্যকায় দেড় হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবারের ঘটনাগুলোও যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ঘটেছে।

তবে নতুন হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কোনো বক্তব্য আনাদোলুর ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ