আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং স্বাস্থ্যসেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় ১৫১ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ, ৪১ হাজার ৩৯০ জন নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং হাসপাতালগুলোতে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বাড্ডায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘মেডিকেল ফিজিক্স’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্যব্যবস্থার চেহারা পুরোপুরি বদলে যাবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এ খাতকে আধুনিক ও নতুন রূপ দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
চিকিৎসাসেবা আরও বিস্তৃত করতে ক্যানসারসহ জটিল রোগের চিকিৎসা জেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, জেলা পর্যায়ে রেডিওথেরাপি সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্রেস্ট ক্যানসার ও যক্ষ্মা প্রতিরোধে দেশব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবায় জনবলসংকট মোকাবিলায় শিগগিরই সারা দেশে আড়াই হাজার দক্ষ নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের স্বাস্থ্য খাতকে লাগামহীন লুটপাট ও ব্যক্তিস্বার্থে অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে পরিণত করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গত সাত মাসে স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ করা হয়েছে।
এ ছাড়া দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও বিদেশি প্রভুত্ববাদী গোষ্ঠী এখনো দেশকে অস্থিতিশীল করার গভীর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
মন্তব্যসমূহ