মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর ক্রিপ্টোকারেন্সি-সম্পর্কিত ব্যবসা থেকে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত তাঁর আর্থিক সম্পদ ও আয়ের ঘোষণাপত্রে এ তথ্য উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিকতা বিষয়ক সরকারি দপ্তর ৯২৭ পৃষ্ঠার এ আর্থিক নথি প্রকাশ করেছে। এতে ট্রাম্পের মিম কয়েন, পরিবার-সমর্থিত ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন ব্যবসা থেকে আয়ের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে।
ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিন আগে চালু করা ‘ট্রাম্প’ মিম কয়েনের ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান থেকে রয়্যালটি বাবদ তিনি ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করেছেন। চালুর পর একদিনের মধ্যেই টোকেনটির দাম ৭৪ ডলারের বেশি উঠলেও পরে তা বড় পতনের মুখে পড়ে।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের সমর্থিত ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল’-এর টোকেন বিক্রি থেকেও তিনি ৫০ কোটির বেশি ডলার আয় করেছেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণকারী কোম্পানির শেয়ার বিক্রি থেকে প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং স্টেবলকয়েন-সম্পর্কিত আরেক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রি থেকে প্রায় ১৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার আয় হয়েছে।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারের সময় ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল’ প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সহপ্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ট্রাম্প, তাঁর ছেলে এরিক ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রসহ আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী রয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম পণ্য ‘ইউএসডি১’ নামে একটি স্টেবলকয়েন, যার মূল্য প্রতি কয়েনে এক মার্কিন ডলারের সঙ্গে স্থির রাখা হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ‘ডব্লিউএলএফ’ টোকেনও বাজারজাত করে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এসব টোকেন বিক্রির নিট আয়ের বড় অংশ প্রতিষ্ঠানটির কাছে যায়।
গত বছর প্রতিষ্ঠানটি আলোচনায় আসে, যখন আবুধাবি সরকারের মালিকানাধীন একটি সার্বভৌম সম্পদ তহবিল এই স্টেবলকয়েন ব্যবহার করে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে। পরে বাইন্যান্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা চ্যাংপেং ঝাও আর্থিক অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার পর ট্রাম্পের কাছ থেকে ক্ষমা পান। তবে এ ক্ষমা ও ক্রিপ্টো লেনদেনের মধ্যে কোনো সম্পর্ক থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে কোনো স্বার্থের সংঘাত নেই। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের অভিযোগ তুললেও ট্রাম্প সব সময় যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের স্বার্থে কাজ করেছেন।
প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, ট্রাম্পের ক্রিপ্টো-সম্পর্কিত আয় তাঁর দীর্ঘদিনের রিয়েল এস্টেট ব্যবসার আয়কেও ছাড়িয়ে গেছে। ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো ক্লাব থেকে তিনি প্রায় ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং ডোরাল গলফ ক্লাব থেকে প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করেছেন।
এ ছাড়া ফ্লোরিডার জুপিটার, নিউ জার্সির বেডমিনস্টার এবং স্কটল্যান্ডের টার্নবেরি গলফ ক্লাব থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় হয়েছে। ট্রাম্পের নাম ব্যবহার করে পরিচালিত ঘড়ি, স্নিকার, সুগন্ধি, গিটার, বই ও রেস্তোরাঁ ব্যবসা থেকেও রয়্যালটি ও আয় এসেছে।
নথিতে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আয়ের তথ্যও রয়েছে। সেখানে দেখা যায়, ‘মেলানিয়া’ শিরোনামের চলচ্চিত্র-সম্পর্কিত চুক্তি থেকে তিনি ১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বেশি নিট আয় করেছেন। এছাড়া সংগ্রহযোগ্য ডিজিটাল পণ্য ও আত্মজীবনী থেকেও তাঁর আয় হয়েছে।
আর্থিক ঘোষণাপত্রে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার দায় ও আদালতের রায়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্কের দেওয়ানি জালিয়াতি মামলা এবং লেখিকা ই. জিন ক্যারলের করা যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলার ক্ষতিপূরণের রায় রয়েছে। ট্রাম্প এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ট্রাম্পের ক্রিপ্টো ব্যবসা থেকে বিপুল আয় নতুন করে স্বার্থের সংঘাত নিয়ে বিতর্ক তৈরি করতে পারে। তবে হোয়াইট হাউস বলছে, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানীতে পরিণত করেছেন এবং তাঁর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে কোনো অনিয়ম নেই।
সূত্র: এএফপি
মন্তব্যসমূহ