সাবেক স্ত্রী সাথী খাতুনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গালাগাল করার অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল হোসেন আলম, যিনি হিরো আলম নামে পরিচিত। মামলার অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদের আদালতে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন হিরো আলম।
মামলায় সাথী খাতুন ছাড়া অন্য দুই আসামি হলেন আহসান হাবিব সেলিম ও মো. মহিদুল ইসলাম।
হিরো আলমের অভিযোগ, সাবেক স্ত্রী সাথী খাতুনের সঙ্গে যোগসাজশে অন্য দুই আসামিও তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করেছেন।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হিরো আলমের আইনজীবী সান্তা সাকছিনা। তিনি জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। এরপর অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পিবিআইকে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার আরজিতে হিরো আলম উল্লেখ করেন, সাথী খাতুন তাঁর কাছে এসে মিউজিক ভিডিওতে কাজ করার সুযোগ চেয়েছিলেন। পরে সংসারের খরচ ও পোশাক কেনার জন্য তাঁকে অর্থ দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৭ আগস্ট সাথী খাতুনকে পাঁচ লাখ টাকা দেন হিরো আলম। ওই টাকা ব্যাংকে জমা রাখার বিষয়টি সাথী খাতুন পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বীকার করেছেন বলেও মামলায় দাবি করা হয়েছে।
এরপর গত ২২ আগস্ট ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান হিরো আলম। তিনি বিদেশে অবস্থান করার সময় সাথী খাতুন ফোন করে মিউজিক ভিডিওর শুটিং ও সাজসজ্জার খরচ বাবদ আরও দুই লাখ টাকা দাবি করেন বলে আরজিতে উল্লেখ করা হয়।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সাথী খাতুনকে তালাক দেন হিরো আলম। এর পর সাথী খাতুন, আহসান হাবিব সেলিম ও মো. মহিদুল ইসলাম মিলে তাঁর কাছে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিরো আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে গালাগাল এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় আদালতে মামলা করার আগে গত ১৬ অক্টোবর রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন হিরো আলম।
তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্যই পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ