ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ যমজ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১ হাজার ৭১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেস।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন অন্তত ৫ হাজার ৩৪ জন। এখনো কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গত বুধবার উত্তর ভেনেজুয়েলায় অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এগুলোর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫। রাজধানী কারাকাস ও উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হোর্হে রদ্রিগেস জানান, এখন পর্যন্ত ৮৫৫টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৮৯টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে নাসার স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে থাকতে পারে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সেনটিনেল-১ স্যাটেলাইটের রাডার তথ্যের ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে। তবে নাসা জানিয়েছে, এটি প্রাথমিক ও পরীক্ষামূলক হিসাব, মাঠপর্যায়ে এখনো যাচাই করা হয়নি।
ভূমিকম্পের পরদিন ২৫ জুন সংগৃহীত স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণ করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অবকাঠামোগত পরিবর্তন শনাক্ত করা হয়। গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, এই সংখ্যা চূড়ান্ত নয়; বরং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বোঝার একটি প্রাথমিক সূচক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
ভূমিকম্পের পাঁচ দিন পর সোমবার আবারও শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয় কারাকাস ও লা গুয়াইরায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি আশ্রয়, চিকিৎসা সহায়তা, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন দ্রুত বাড়ছে। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল জানিয়েছে, জীবনরক্ষাকারী সহায়তা বাড়াতে জরুরি অর্থায়ন প্রয়োজন।
উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেক মানুষ আটকে থাকতে পারেন। সময় যত যাচ্ছে, জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা তত কমছে। তবু স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: এএফপি
মন্তব্যসমূহ