ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৬ দিন পর জীবিত উদ্ধার শিশু

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে প্রায় তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। হাজারো মানুষের মৃত্যু, খাদ্যসংকট, চিকিৎসাসেবার চাপ ও আশ্রয়হীন মানুষের দুর্দশার মধ্যে এ ঘটনাকে আশার আলো হিসেবে দেখছেন উদ্ধারকর্মীরা।গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে রাজধানী কারাকাসের কাছাকাছি লা গুয়ারিয়া অঙ্গরাজ্যসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়। বহু আবাসিক ভবন, ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো এখনও কাজ করছে।জর্ডানের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ধসে পড়া একটি ভবনের নিচ থেকে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করেন। দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পরও শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল বলে জানানো হয়েছে। উদ্ধার শেষে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।সাধারণত ভূমিকম্পের পর জীবিত মানুষ উদ্ধারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় ধরা হয় প্রথম ৭২ ঘণ্টাকে। সেই সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও শিশুটিকে জীবিত পাওয়ায় উদ্ধারকারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৪৩ জনে। আহত হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি লা গুয়ারিয়ায় খাবার, পানি, আশ্রয় ও চিকিৎসাসেবার সংকট তীব্র হয়েছে। অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। হাসপাতালগুলো আহত রোগীতে ভরে গেছে। অস্থায়ী মর্গেও স্বজনদের শনাক্ত করতে ভিড় করছেন মানুষ।জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, ভূমিকম্পের কারণে লাখ লাখ মানুষ মানবিক সহায়তার প্রয়োজনের মুখে পড়তে পারে। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চরম চাপে রয়েছে। নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।নাসার প্রাথমিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে থাকতে পারে। তবে মাঠপর্যায়ের যাচাই শেষে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, অনেক এলাকায় ত্রাণ ও সরকারি সহায়তা যথাসময়ে পৌঁছাচ্ছে না। বহু মানুষ নিজেরাই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছেন। কেউ হাসপাতাল, কেউ মর্গে ছুটছেন প্রিয়জনের সন্ধানে।উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও সময় যত যাচ্ছে, জীবিত মানুষ পাওয়ার সম্ভাবনা তত কমছে। তবু ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুটির জীবিত ফিরে আসা ভেনেজুয়েলার বিপর্যস্ত মানুষের জন্য এক বিরল আশার খবর হয়ে উঠেছে। সূত্র: রয়টার্স

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৬ দিন পর জীবিত উদ্ধার শিশু