ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৬ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

জুলাই আন্দোলনের প্রথম রক্তাক্ত দিনকে স্বীকৃতি

জুলাই আন্দোলনের প্রথম রক্তাক্ত দিনকে স্বীকৃতি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস
ফলো করুন

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রথম পুলিশি হামলায় রক্তাক্ত হওয়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ১১ জুলাইকে ‘প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে দিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

সোমবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১০তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অতিরিক্ত দায়িত্ব মোহাম্মদ নুরুল করিম জানান, শিক্ষার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ১১ জুলাইকে প্রতিরোধ দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে সিন্ডিকেট। ওইদিন কী ধরনের কর্মসূচি হবে, তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঠিক করবে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি চলাকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে আনসার ক্যাম্প সংলগ্ন ছাত্র আন্দোলন চত্বরে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি, টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ করা হয়।

সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া ক্যাম্পাস সাংবাদিকরাও সেদিন হামলার শিকার হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গলায় পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন সাংবাদিককে মারধর করা হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেদিনের ঘটনার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, কুবির সেই প্রতিরোধ পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আন্দোলনেও নতুন গতি আনে।

২০২৫ সালের ১১ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক স্মরণসভায় সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দিনটিকে প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণার কথা বলেন। এবার সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেল।

পুলিশি হামলার শিকার দৈনিক নয়া দিগন্তের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মানছুর আলম অন্তর বলেন, জুলাই আন্দোলনে প্রথম পুলিশি হামলাকে প্রতিরোধ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সামনে এগিয়ে যায়। তাদের সাহসিকতা ও ত্যাগ দেশের অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরও উজ্জীবিত করেছিল।

ওইদিন আহত শিক্ষার্থী রায়হান আহমেদ বলেন, অন্যায়, জুলুম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে যে স্বপ্ন নিয়ে তারা রাস্তায় নেমেছিলেন, আজও সেই স্বপ্ন লালন করেন। ন্যায়ের পক্ষে যারা রক্ত দিয়েছেন, তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন।

ট্যাগ : জুলাই গণঅভ্যুত্থান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জুলাই আন্দোলনের প্রথম রক্তাক্ত দিনকে স্বীকৃতি

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রথম পুলিশি হামলায় রক্তাক্ত হওয়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ১১ জুলাইকে ‘প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে দিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

সোমবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১০তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অতিরিক্ত দায়িত্ব মোহাম্মদ নুরুল করিম জানান, শিক্ষার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ১১ জুলাইকে প্রতিরোধ দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে সিন্ডিকেট। ওইদিন কী ধরনের কর্মসূচি হবে, তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঠিক করবে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি চলাকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে আনসার ক্যাম্প সংলগ্ন ছাত্র আন্দোলন চত্বরে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি, টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ করা হয়।

সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া ক্যাম্পাস সাংবাদিকরাও সেদিন হামলার শিকার হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গলায় পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন সাংবাদিককে মারধর করা হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেদিনের ঘটনার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, কুবির সেই প্রতিরোধ পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আন্দোলনেও নতুন গতি আনে।

২০২৫ সালের ১১ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক স্মরণসভায় সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দিনটিকে প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণার কথা বলেন। এবার সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেল।

পুলিশি হামলার শিকার দৈনিক নয়া দিগন্তের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মানছুর আলম অন্তর বলেন, জুলাই আন্দোলনে প্রথম পুলিশি হামলাকে প্রতিরোধ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সামনে এগিয়ে যায়। তাদের সাহসিকতা ও ত্যাগ দেশের অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরও উজ্জীবিত করেছিল।

ওইদিন আহত শিক্ষার্থী রায়হান আহমেদ বলেন, অন্যায়, জুলুম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে যে স্বপ্ন নিয়ে তারা রাস্তায় নেমেছিলেন, আজও সেই স্বপ্ন লালন করেন। ন্যায়ের পক্ষে যারা রক্ত দিয়েছেন, তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ