ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’: ঢাকেশ্বরী মন্দিরে রাষ্ট্রপতি

‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’: ঢাকেশ্বরী মন্দিরে রাষ্ট্রপতি
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং সব ধর্মের মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে অসাম্প্রদায়িক, শান্তিময় ও প্রেমময় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন শেষে বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ হিন্দু, মুসলমান, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ—সব সম্প্রদায়ের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছেন। দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে বলে দেশ-বিদেশে নানা প্রচার চালানো হলেও নিজ নিজ ধর্ম পালনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ এর জবাব দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সাহিত্য ও শিল্পেও বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে অভূতপূর্ব মেলবন্ধন রয়েছে। তবে কিছু সুবিধাবাদী মানুষ বিভাজন তৈরি করতে চায় এবং তারাই অস্থিরতা সৃষ্টি করে।

নাগরিক অধিকার প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আপনাদের যে স্লোগান–ধর্ম যার যার, উৎসব সবার; আমরা তার সঙ্গে যোগ করতে চাই–ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। সংবিধান আপনাকে যে নাগরিক অধিকার দিয়েছে, রাষ্ট্র তা রক্ষা করতে দায়বদ্ধ।’

১৯৭১ সালে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় তৈরি হয়েছিল, তা থেকে তারা সরে যাননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সেই বাংলাদেশ রক্ষায় যেকোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত বলে জানান রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই কোনো বিষয়ে চরম অবস্থানে যেতে চাই না। আমরা চরমপন্থি নই। আমাদের এই ধারাটা সব সময় অব্যাহত রাখতে হবে।’

আসন্ন পূজা নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি জানান, প্রধানমন্ত্রী এ জন্য শুধু সরকারকে নয়, নিজ দলের নেতা-কর্মীদেরও নির্দেশ দিয়েছেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের ন্যায়সংগত দাবিগুলো পূরণে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপতি।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশ এখন একটি ভয়াবহ অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতি থেকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সংসদ গঠিত হয়েছে এবং সংবিধান পরিবর্তনের বিষয়ে জুলাই সনদ স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এটিই বাস্তবতা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্যে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুঃসময়’ কবিতার কয়েকটি পঙ্‌ক্তিও উদ্ধৃত করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘আমরাও পাখা বন্ধ করব না। আমরাও উড়ে যাব, অবশ্যই তীরে পৌঁছবো। অবশ্যই পৌঁছবো। আমরা আমাদের যে স্বপ্ন–একটা অসাম্প্রদায়িক, শান্তিময়, প্রেমময় বাংলাদেশ–সেই বাংলাদেশকে আমরা অবশ্যই প্রতিষ্ঠা করব।’

ট্যাগ : রাষ্ট্রপতি ঢাকেশ্বরী মন্দির

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’: ঢাকেশ্বরী মন্দিরে রাষ্ট্রপতি

প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং সব ধর্মের মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে অসাম্প্রদায়িক, শান্তিময় ও প্রেমময় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন শেষে বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ হিন্দু, মুসলমান, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ—সব সম্প্রদায়ের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছেন। দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে বলে দেশ-বিদেশে নানা প্রচার চালানো হলেও নিজ নিজ ধর্ম পালনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ এর জবাব দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সাহিত্য ও শিল্পেও বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে অভূতপূর্ব মেলবন্ধন রয়েছে। তবে কিছু সুবিধাবাদী মানুষ বিভাজন তৈরি করতে চায় এবং তারাই অস্থিরতা সৃষ্টি করে।

নাগরিক অধিকার প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আপনাদের যে স্লোগান–ধর্ম যার যার, উৎসব সবার; আমরা তার সঙ্গে যোগ করতে চাই–ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। সংবিধান আপনাকে যে নাগরিক অধিকার দিয়েছে, রাষ্ট্র তা রক্ষা করতে দায়বদ্ধ।’

১৯৭১ সালে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় তৈরি হয়েছিল, তা থেকে তারা সরে যাননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সেই বাংলাদেশ রক্ষায় যেকোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত বলে জানান রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই কোনো বিষয়ে চরম অবস্থানে যেতে চাই না। আমরা চরমপন্থি নই। আমাদের এই ধারাটা সব সময় অব্যাহত রাখতে হবে।’

আসন্ন পূজা নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি জানান, প্রধানমন্ত্রী এ জন্য শুধু সরকারকে নয়, নিজ দলের নেতা-কর্মীদেরও নির্দেশ দিয়েছেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের ন্যায়সংগত দাবিগুলো পূরণে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপতি।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশ এখন একটি ভয়াবহ অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতি থেকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সংসদ গঠিত হয়েছে এবং সংবিধান পরিবর্তনের বিষয়ে জুলাই সনদ স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এটিই বাস্তবতা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্যে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুঃসময়’ কবিতার কয়েকটি পঙ্‌ক্তিও উদ্ধৃত করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘আমরাও পাখা বন্ধ করব না। আমরাও উড়ে যাব, অবশ্যই তীরে পৌঁছবো। অবশ্যই পৌঁছবো। আমরা আমাদের যে স্বপ্ন–একটা অসাম্প্রদায়িক, শান্তিময়, প্রেমময় বাংলাদেশ–সেই বাংলাদেশকে আমরা অবশ্যই প্রতিষ্ঠা করব।’


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ