ঢাকার বায়ুদূষণ কমানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বেশি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে নিমগাছ রোপণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেছেন, বিশুদ্ধ বাতাস নিশ্চিত করতে রাজধানীতে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ উদ্যোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুরে সরকারি বাঙলা কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান দেখতে তিনি সেখানে যান।
তারেক রহমান বলেন, বায়ুদূষণ প্রতিরোধে গাছ লাগানোর গুরুত্ব অনেক। ঢাকার বায়ুমান প্রায়ই উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে যায়। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা ও বিশুদ্ধ বাতাস নিশ্চিত করতে প্রচুর গাছ লাগানো দরকার। এ ক্ষেত্রে নিমগাছ রোপণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণ গাছের তুলনায় নিমগাছ তিন গুণ পর্যন্ত বেশি অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিজ নিজ সংগঠনের অধীনে আয়োজিত কর্মসূচিতে তোমরা নিয়মিত অংশ নেবে। মনে রাখবে, কেবল প্রাতিষ্ঠানিক বা নির্ধারিত প্রোগ্রামের মধ্যেই তোমাদের কাজ সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, প্রোগ্রামের বাইরেও নিজ উদ্যোগে কাজ করে যেতে হবে। পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক সচেতনতার বার্তা তোমার বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।’
দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের সংখ্যা প্রায় দুই থেকে আড়াই কোটি। তোমরাই এই দেশের ভবিষ্যৎ। যদি তোমরাই ভবিষ্যৎ হও, তবে একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব তোমাদেরই নিতে হবে। তাই এই কাজ এখন থেকেই শুরু করতে হবে। একটি পরিষ্কার ও সুস্থ পরিবেশে বাস করলে আমরা সবাই সুস্থ থাকতে পারবো। পরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকা ব্যক্তি যে স্বাস্থ্য সুবিধা পায়, অপরিচ্ছন্ন ও ময়লাযুক্ত পরিবেশে থাকা মানুষ তা পায় না।’
ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোগটির প্রকোপ কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। বিশেষ করে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি থাকে। তাই এ সময়ে বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের নিজেদের ও স্বজনদের জন্মদিন বা বিশেষ দিনগুলোতে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা নিজেদের এবং স্বজনদের জন্মদিন বা বিশেষ দিনগুলোতে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করবে। একদিনে হয়তো সবাই সচেতন হবে না, কিন্তু বারবার বোঝানোর মাধ্যমে একদিন ইতিবাচক পরিবর্তন আসবেই। আসো, আমরা সবাই মিলে আমাদের মাটি, পানি ও বাতাসকে পরিচ্ছন্ন রাখার শপথ নিই এবং একটি সুন্দর ও সুস্থ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’
মন্তব্যসমূহ