কিশোরগঞ্জে নিখোঁজের পাঁচ মাস পর নরসুন্দা নদী থেকে সালমান (২১) নামে এক যুবকের কঙ্কালের ৭৭টি হাড় উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ড্যান্ডি সেবনের সময় বিরোধের জেরে তাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, হত্যার পর লাশ গুম করতে নদীর কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা পুলিশ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
নিহত সালমান হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের কুড়িমারা গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামের গোলাপ মিয়ার দুই ছেলে সাকিব (১৮) ও মাফি (১৫), মৃত মোতালেবের ছেলে রফিক (৪০) এবং শামছুদ্দিনের ছেলে রমজান মিয়া (৩৫)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ মে সন্ধ্যায় ইলিম্যান বাজারে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন সালমান। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরদিন হোসেনপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডির সূত্র ধরে তদন্তে নামে ডিবি পুলিশ। প্রযুক্তির সহায়তায় সালমান ও তার বন্ধুদের মোবাইল ফোনের কথোপকথন এবং চলাফেরার তথ্য বিশ্লেষণ করে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দীর্ঘ পাঁচ মাসেও ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে গত শুক্রবার হোসেনপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন সালমানের বাবা ফজলুর রহমান। মামলা দায়েরের পর ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল পাকুন্দিয়ার বিশ্বনাথপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, ড্যান্ডি সেবনের সময় সালমানের সঙ্গে তার সহযোগীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সালমান বাঁশ দিয়ে মাফিকে আঘাত করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বাকি চারজন তার কাছ থেকে বাঁশ কেড়ে নেন এবং তা দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করেন বলে পুলিশের ভাষ্য। পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে নরসুন্দা নদীর কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের হাতিমের স্কুলের পাশে নরসুন্দা নদীতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে সালমানের মাথার খুলি, বুকের পাঁজরসহ মোট ৭৭টি হাড় এবং তার ব্যবহৃত একটি গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে গেঞ্জি দেখে কঙ্কালটি ছেলের বলে শনাক্ত করেন সালমানের মা সালমা।
উদ্ধার করা কঙ্কালের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সেটি পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকিত সরকার এবং ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ