ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী নিজেই রাস্তায় নেমেছেন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী নিজেই রাস্তায় নেমেছেন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ফাইল ছবি
ফলো করুন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী নিজেই মাঠে নেমে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তাঁর মতে, ডেঙ্গু মোকাবিলায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগের বিস্তার ঠেকাতে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। এ জন্য বাড়িঘর পরিচ্ছন্ন রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

শনিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ডা. এম এ মুহিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাননি, নিজেও সাধারণ মানুষের মতো রাস্তায় নেমেছেন। বিভিন্ন হাসপাতাল, সরকারি কর্মচারীদের আবাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে সেখানকার পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন তিনি।

ডেঙ্গু মোকাবিলার কৌশল তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একটি হলো রোগ প্রতিরোধের মাধ্যমে আক্রান্তের সংখ্যা কমানো, অন্যটি আক্রান্তদের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা। তাঁর ভাষ্য, রোগ প্রতিরোধে চিকিৎসক বা হাসপাতালের সরাসরি ভূমিকা সীমিত। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বাড়িঘর পরিষ্কার রাখা এবং মশার লার্ভা ও প্রজননস্থল ধ্বংস করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনও কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক পরিদর্শন সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, সকালে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন, তা তাঁর সফরসঙ্গীরাও আগে থেকে জানতেন না। অনেকটা আকস্মিকভাবেই তিনি বিভিন্ন হাসপাতাল, সরকারি আবাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখেছেন।

রাজধানীর হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল পরিদর্শনের বিষয়ে ডা. এম এ মুহিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালটির চিকিৎসাব্যবস্থা, পরিবেশ ও বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। সেখানে কিছু সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে সেগুলো সাত দিনের মধ্যে সমাধানের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি যেসব ক্ষেত্রে ভালো ব্যবস্থাপনা দেখেছেন, সেগুলোর প্রশংসাও করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, হার্ট ফাউন্ডেশনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অন্যান্য হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনার মান বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিদর্শনের ধরন ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বড় বহর, টেলিভিশন ক্যামেরা, প্রটোকল ও বিপুলসংখ্যক লোকজন নিয়ে কোনো স্থানে গেলে অনেক সময় মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী সীমিতসংখ্যক সঙ্গী নিয়ে বিভিন্ন স্থানে গেছেন। কয়েকটি ইউনিট পরিদর্শনের পর তিনি একাই ঘুরে দেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মচারীদের আবাসন পরিদর্শনের সময় সেখানকার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন এবং পরিচ্ছন্নতা ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিশুদের জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ডা. এম এ মুহিত বলেন, সরকার এমন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে মুখোমুখি সংঘাতের বদলে গঠনমূলক পরিবেশ তৈরি হবে। ব্যবস্থাপনায় ভুলত্রুটি থাকতে পারে; তবে সেগুলো নিয়ে শুধু বিতর্ক না করে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রীর মতে, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও মানুষের চিন্তাচেতনার পরিবর্তন পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব উদ্যোগের সুফল দীর্ঘমেয়াদে পাওয়া যাবে। তবে রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়, এ জন্য ধারাবাহিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী প্রতি শনিবার এ ধরনের পরিদর্শন করবেন কি না, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সময় ও সুযোগ পেলেই তিনি বিভিন্ন স্থানে যাবেন। শনিবারের পরিদর্শন নিয়মিত চর্চা হিসেবে চলতে পারে, তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়।

এম এ মুহিত আরও বলেন, একজন নেতা নিজের কাজের মাধ্যমে কীভাবে অন্যদের জন্য উদাহরণ তৈরি করেন, তা গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের বিশেষ দিক হলো, তিনি শুধু নির্দেশনা দিয়েই থেমে থাকেন না; নিজে কাজ শুরু করে অন্যদেরও উৎসাহিত করেন।

ট্যাগ : ডেঙ্গু

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী নিজেই রাস্তায় নেমেছেন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী নিজেই মাঠে নেমে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তাঁর মতে, ডেঙ্গু মোকাবিলায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগের বিস্তার ঠেকাতে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। এ জন্য বাড়িঘর পরিচ্ছন্ন রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

শনিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ডা. এম এ মুহিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাননি, নিজেও সাধারণ মানুষের মতো রাস্তায় নেমেছেন। বিভিন্ন হাসপাতাল, সরকারি কর্মচারীদের আবাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে সেখানকার পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন তিনি।

ডেঙ্গু মোকাবিলার কৌশল তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একটি হলো রোগ প্রতিরোধের মাধ্যমে আক্রান্তের সংখ্যা কমানো, অন্যটি আক্রান্তদের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা। তাঁর ভাষ্য, রোগ প্রতিরোধে চিকিৎসক বা হাসপাতালের সরাসরি ভূমিকা সীমিত। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বাড়িঘর পরিষ্কার রাখা এবং মশার লার্ভা ও প্রজননস্থল ধ্বংস করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনও কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক পরিদর্শন সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, সকালে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন, তা তাঁর সফরসঙ্গীরাও আগে থেকে জানতেন না। অনেকটা আকস্মিকভাবেই তিনি বিভিন্ন হাসপাতাল, সরকারি আবাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখেছেন।

রাজধানীর হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল পরিদর্শনের বিষয়ে ডা. এম এ মুহিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালটির চিকিৎসাব্যবস্থা, পরিবেশ ও বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। সেখানে কিছু সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে সেগুলো সাত দিনের মধ্যে সমাধানের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি যেসব ক্ষেত্রে ভালো ব্যবস্থাপনা দেখেছেন, সেগুলোর প্রশংসাও করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, হার্ট ফাউন্ডেশনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অন্যান্য হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনার মান বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিদর্শনের ধরন ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বড় বহর, টেলিভিশন ক্যামেরা, প্রটোকল ও বিপুলসংখ্যক লোকজন নিয়ে কোনো স্থানে গেলে অনেক সময় মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী সীমিতসংখ্যক সঙ্গী নিয়ে বিভিন্ন স্থানে গেছেন। কয়েকটি ইউনিট পরিদর্শনের পর তিনি একাই ঘুরে দেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মচারীদের আবাসন পরিদর্শনের সময় সেখানকার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন এবং পরিচ্ছন্নতা ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিশুদের জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ডা. এম এ মুহিত বলেন, সরকার এমন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে মুখোমুখি সংঘাতের বদলে গঠনমূলক পরিবেশ তৈরি হবে। ব্যবস্থাপনায় ভুলত্রুটি থাকতে পারে; তবে সেগুলো নিয়ে শুধু বিতর্ক না করে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রীর মতে, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও মানুষের চিন্তাচেতনার পরিবর্তন পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব উদ্যোগের সুফল দীর্ঘমেয়াদে পাওয়া যাবে। তবে রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়, এ জন্য ধারাবাহিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী প্রতি শনিবার এ ধরনের পরিদর্শন করবেন কি না, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সময় ও সুযোগ পেলেই তিনি বিভিন্ন স্থানে যাবেন। শনিবারের পরিদর্শন নিয়মিত চর্চা হিসেবে চলতে পারে, তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়।

এম এ মুহিত আরও বলেন, একজন নেতা নিজের কাজের মাধ্যমে কীভাবে অন্যদের জন্য উদাহরণ তৈরি করেন, তা গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের বিশেষ দিক হলো, তিনি শুধু নির্দেশনা দিয়েই থেমে থাকেন না; নিজে কাজ শুরু করে অন্যদেরও উৎসাহিত করেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ