ঢাকা    শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বাধ্য হয়ে সুদের কিস্তিতে সাইন করলে কি গুনাহ হবে?

বাধ্য হয়ে সুদের কিস্তিতে সাইন করলে কি গুনাহ হবে?
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ইসলামে সুদ গ্রহণ করা এবং প্রদান করা—উভয়কেই সুস্পষ্টভাবে হারাম বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পারিবারিক চাপ, জবরদস্তি কিংবা চরম নিরুপায় অবস্থায় বাধ্য হয়ে সুদে ঋণ গ্রহণ বা জামিনদার হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর সেই পাপ বর্তাবে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদরা। সম্প্রতি এক প্রশ্নের জবাবে শরীয়তের আলোকে এমন পরিস্থিতির স্পষ্ট ফতোয়া তুলে ধরা হয়।

এক ভুক্তভোগী নারী আলেমদের কাছে প্রশ্ন রেখে জানান, আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালে জমি কেনার উদ্দেশ্যে তাঁর স্বামী ও শ্বশুর জোরপূর্বক তাঁর নামে একটি সুদের কিস্তি উত্তোলন করান এবং অপর একটি কিস্তিতে তাঁকে জামিনদার হতে বাধ্য করেন। সম্পূর্ণ অনিচ্ছা ও মানসিক টানাপোড়েনের মধ্যে পারিবারিক চাপের কারণে তাঁকে এ কাজ করতে হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে তিনি সুদের কবিরা গুনাহের অংশীদার হবেন কি না, তা জানতে চান তিনি।

উত্তরে ইসলামিক স্কলাররা জানান, ইসলামি অনুশাসন অনুযায়ী স্বেচ্ছায় সুদের চুক্তি লেখা, সুদের সাক্ষী হওয়া কিংবা জামিনদার হওয়া নিঃসন্দেহে মারাত্মক অপরাধ ও কবিরা গুনাহ। তবে কোনো ব্যক্তি যদি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় নয়, বরং বাস্তবিক জবরদস্তি ও চরম বাধ্যবাধকতার মুখে এমন নিষিদ্ধ কাজে জড়াতে বাধ্য হন, তবে শরীয়তের মূলনীতি অনুসারে তাঁর ওপর সেই পাপের দায় বর্তায় না।

আলেমদের বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় পারিবারিক বলপ্রয়োগ ও মানসিক অসহায়ত্বের কারণে ওই নারী স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছিলেন। অন্তরে তীব্র ঘৃণা থাকা সত্ত্বেও যেহেতু তিনি পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন, তাই তিনি সুদের পাপে সরাসরি অংশীদার হবেন না। বরং এই সুদী ঋণের সমস্ত পাপ, দায় ও অভিশাপ কেবল তাঁদের ওপরই বর্তাবে, যাঁরা অন্যায়ভাবে তাঁকে বাধ্য করেছেন এবং সুদের অর্থ সরাসরি ভোগ করেছেন।

একই সঙ্গে পরামর্শ দেওয়া হয়, নিজের পবিত্রতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট নারীর মনে যে অপরাধবোধ তৈরি হয়েছে, তা তাঁর অন্তরে আল্লাহর ভীতি ও ঈমানের বহিঃপ্রকাশ। এমন অবস্থায় মনে মনে আল্লাহর দরবারে ইস্তিগফার অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পরিবারকে সুদের ভয়াবহতা সম্পর্কে বুঝিয়ে দ্রুত কিস্তি পরিশোধের মাধ্যমে ঋণমুক্ত হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন ইসলামিক চিন্তাবিদরা।

ট্যাগ : ইসলামিক ফতোয়া

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


বাধ্য হয়ে সুদের কিস্তিতে সাইন করলে কি গুনাহ হবে?

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইসলামে সুদ গ্রহণ করা এবং প্রদান করা—উভয়কেই সুস্পষ্টভাবে হারাম বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পারিবারিক চাপ, জবরদস্তি কিংবা চরম নিরুপায় অবস্থায় বাধ্য হয়ে সুদে ঋণ গ্রহণ বা জামিনদার হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর সেই পাপ বর্তাবে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদরা। সম্প্রতি এক প্রশ্নের জবাবে শরীয়তের আলোকে এমন পরিস্থিতির স্পষ্ট ফতোয়া তুলে ধরা হয়।

এক ভুক্তভোগী নারী আলেমদের কাছে প্রশ্ন রেখে জানান, আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালে জমি কেনার উদ্দেশ্যে তাঁর স্বামী ও শ্বশুর জোরপূর্বক তাঁর নামে একটি সুদের কিস্তি উত্তোলন করান এবং অপর একটি কিস্তিতে তাঁকে জামিনদার হতে বাধ্য করেন। সম্পূর্ণ অনিচ্ছা ও মানসিক টানাপোড়েনের মধ্যে পারিবারিক চাপের কারণে তাঁকে এ কাজ করতে হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে তিনি সুদের কবিরা গুনাহের অংশীদার হবেন কি না, তা জানতে চান তিনি।

উত্তরে ইসলামিক স্কলাররা জানান, ইসলামি অনুশাসন অনুযায়ী স্বেচ্ছায় সুদের চুক্তি লেখা, সুদের সাক্ষী হওয়া কিংবা জামিনদার হওয়া নিঃসন্দেহে মারাত্মক অপরাধ ও কবিরা গুনাহ। তবে কোনো ব্যক্তি যদি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় নয়, বরং বাস্তবিক জবরদস্তি ও চরম বাধ্যবাধকতার মুখে এমন নিষিদ্ধ কাজে জড়াতে বাধ্য হন, তবে শরীয়তের মূলনীতি অনুসারে তাঁর ওপর সেই পাপের দায় বর্তায় না।

আলেমদের বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় পারিবারিক বলপ্রয়োগ ও মানসিক অসহায়ত্বের কারণে ওই নারী স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছিলেন। অন্তরে তীব্র ঘৃণা থাকা সত্ত্বেও যেহেতু তিনি পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন, তাই তিনি সুদের পাপে সরাসরি অংশীদার হবেন না। বরং এই সুদী ঋণের সমস্ত পাপ, দায় ও অভিশাপ কেবল তাঁদের ওপরই বর্তাবে, যাঁরা অন্যায়ভাবে তাঁকে বাধ্য করেছেন এবং সুদের অর্থ সরাসরি ভোগ করেছেন।

একই সঙ্গে পরামর্শ দেওয়া হয়, নিজের পবিত্রতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট নারীর মনে যে অপরাধবোধ তৈরি হয়েছে, তা তাঁর অন্তরে আল্লাহর ভীতি ও ঈমানের বহিঃপ্রকাশ। এমন অবস্থায় মনে মনে আল্লাহর দরবারে ইস্তিগফার অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পরিবারকে সুদের ভয়াবহতা সম্পর্কে বুঝিয়ে দ্রুত কিস্তি পরিশোধের মাধ্যমে ঋণমুক্ত হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন ইসলামিক চিন্তাবিদরা।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ