ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামলার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া ৭৮০ কেজি মারাত্মক বিস্ফোরকভর্তি একটি ট্রাক জব্দের ঘটনায় লেবানন সরকারের ওপর কূটনৈতিক চাপ তীব্র করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৈরুত থেকে পূর্বাঞ্চলীয় বেকা উপত্যকায় যাওয়ার মহাসড়কে আটক হওয়া ওই চালানের সঙ্গে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সরাসরি সংশ্লিষ্টতার কথা সংগঠনটির এক আইনপ্রণেতা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনার পর বিস্ফোরক পাঠানোর নির্দেশদাতা, অর্থের জোগানদাতা ও মূল পরিকল্পনাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনার কড়া আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
বৃহস্পতিবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে টেলিফোনে সরাসরি কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, ফোনালাপে মহাসড়কে জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। প্রেসিডেন্ট আউন আশ্বস্ত করে বলেন, দেশজুড়ে অবৈধ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম জব্দে লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব কঠোরভাবে পালন করছে। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান বিমান হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ অবিলম্বে বন্ধ করতে তেল আবিবের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও. Source: উইকিপিডিয়া
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দেশটির সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, কোনো অবস্থাতেই জব্দ করা এসব প্রাণঘাতী বিস্ফোরক হিজবুল্লাহর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না বলে পরিষ্কার সতর্কবার্তা দিয়েছেন রুবিও। একই সঙ্গে সংঘাত ও ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে লেবানন ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সরাসরি হটলাইন বা যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন তিনি। একই দিনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যেখানে ইরান ও তার সহযোগী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে আলোচনা হয়।
লেবাননের বিচার বিভাগীয় সূত্র বার্তা সংস্থা এপিকে জানিয়েছে, জব্দ করা ট্রাকটিতে মোট ৭৮০ কেজি বিস্ফোরক মজুদ ছিল। এর মধ্যে ২৫০ কেজি অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক টিএনটি এবং ৫৫০ পাউন্ড সি-ফোর (C-4) প্লাস্টিক বিস্ফোরক রয়েছে। বৃহস্পতিবার লেবাননের পার্লামেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হিজবুল্লাহর আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ খোলামেলা স্বীকার করেন যে এই চালানের মালিক তাঁদের সংগঠন এবং বিস্ফোরকগুলো মূলত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ব্যবহারের জন্য নেওয়া হচ্ছিল। একই সঙ্গে জব্দ করা বিস্ফোরক ও আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিও জানান তিনি।
তবে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এই বিস্ফোরক পরিবহনের ঘটনাটিকে সরাসরি ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনায় জড়িত হিজবুল্লাহ সদস্যদের শনাক্ত করতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং কৌশলগত মহাসড়কে এই চালান আটকে দেওয়ার ঘটনায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতি এবং চলতি বছরের সমঝোতা সত্ত্বেও হিজবুল্লাহর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর সীমান্ত আগ্রাসন নিয়ে পুরো লেবাননজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সূত্র: এপি
মন্তব্যসমূহ