নওগাঁর আত্রাইয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতার দায়ের করা ২০ লাখ টাকার চাঁদাবাজি মামলায় দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার আত্রাই উপজেলা প্রতিনিধি সিফাত মাহমুদ ফাহিমকে (৩৮) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) নওগাঁর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে যাওয়া সাংবাদিক সিফাত আত্রাই উপজেলার সোনাইডাঙা গ্রামের ওসমানের ছেলে। তিনি আত্রাই মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজের সাবেক ছাত্রদল সভাপতি ছিলেন এবং বর্তমানে সাংবাদিকতায় যুক্ত রয়েছেন।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৩ জুন উপজেলার ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় কমিটির সহসভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন মন্ডল বাদী হয়ে ৮ নম্বর আমলি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (আত্রাই) একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, সাংবাদিক ফাহিম তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন এবং তা না দেওয়ায় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করেছেন।
এ বিষয়ে মামলার বাদী চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন মন্ডল বলেন, ‘আমি ২০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় সে আমাকে নানাভাবে হুমকি দেয়। এলাকায় খোঁজ নিলেই তাঁর আসল পরিচয় জানতে পারবেন।’
এদিকে সাংবাদিক ফাহিমকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের একাংশের দাবি, ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরেই চেয়ারম্যান ক্ষুব্ধ হয়ে এ মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় দুজন গণমাধ্যমকর্মী জানান, মামলার কথিত ঘটনার সময় এমনকি মামলা দায়েরের দিনও ফাহিম ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। চেয়ারম্যানের একটি বিতর্কিত জমিতে অন্যায়ভাবে ঘর তোলার কাজে বাধা দেওয়া এবং দুর্নীতির তথ্য ফাঁসের কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে এ সাজানো মামলা দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা থেকে মফস্বল সাংবাদিক নেতৃবৃন্দও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মামলাটিকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ উল্লেখ করে অবিলম্বে সিফাত মাহমুদ ফাহিমের নিঃশর্ত মুক্তি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্যসমূহ