মসজিদ মহান আল্লাহর পবিত্র ঘর। এখানে মুমিন মুসলমানরা একাগ্রচিত্তে নামাজ আদায়, জিকির ও কুরআন তিলাওয়াতসহ বিভিন্ন ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন। তাই মসজিদের ভাবগাম্ভীর্য, পবিত্রতা এবং শান্ত পরিবেশ রক্ষা করা প্রতিটি মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব।
বর্তমান যুগে দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে মসজিদে মোবাইল ফোনের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়। তবে তা হতে হবে অত্যন্ত সংযত, একান্ত প্রয়োজনে এবং বৈধ কাজের উদ্দেশ্যে। কোনোভাবেই যেন অন্যের ইবাদতে ব্যাঘাত না ঘটে বা পবিত্র ঘরের মর্যাদা ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে।
মসজিদে আসার আগেই মোবাইল ব্যবস্থাপনায় কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। সম্ভব হলে ফোন বাসায় বা কর্মস্থলে রেখে আসা উত্তম। তা সম্ভব না হলে মসজিদে প্রবেশের আগেই ফোনটি বন্ধ করে নেওয়া কিংবা অন্তত সাইলেন্ট মুডে রাখা আবশ্যক। বিশেষ করে রিংটোন বা মেসেজ টোনে যেন কোনো গান-বাজনা বা শরিয়তবিরোধী শব্দ না থাকে, সে বিষয়ে যত্নবান হতে হবে। সাধারণ সুর বা মার্জিত রিংটোন থাকলে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বেজে উঠলেও অন্তত বাদ্যযন্ত্রের গুনাহ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
মসজিদের ভেতর অবস্থানকালে কোনো জরুরি কল এলে সাথে সাথে কথা না বলে দ্রুত মসজিদের বাইরে বের হয়ে যাওয়া উচিত। বাইরে যাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব না হলে নিরিবিলি এক কোণে গিয়ে ফিসফিস করে অত্যন্ত সংক্ষেপে কথা সেরে নেওয়া দরকার। নামাজরত বা জিকিরে মগ্ন মুসল্লিদের মাঝে বসে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা বা রিংটোন বাজিয়ে পরিবেশ নষ্ট করা অন্যের অধিকার হরণ ও কষ্টের কারণ, যা স্পষ্ট গুনাহের কাজ।
অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারের মাধ্যমে একান্ত প্রয়োজনে সংক্ষিপ্ত জরুরি বার্তা আদান-প্রদান করা গেলেও সেখানে অনর্থক চ্যাটিং, গান-বাজনা কিংবা কোনো অনৈতিক ভিডিও দেখা যাবে না। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক কিংবা ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদন প্ল্যাটফর্মগুলো মসজিদে বসে ব্যবহার করা মসজিদের পবিত্রতা ও আদবের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। সুতরাং ইবাদতের শান্ত পরিবেশ বজায় রাখতে অনর্থক মোবাইল আসক্তি পরিহার করে আল্লাহর ঘরের হক আদায় করাই ইসলামের নির্দেশনা।
মন্তব্যসমূহ