শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও মানবকল্যাণের মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, প্রকৃত শিক্ষার চর্চা না থাকলে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অনেক সময় সমাজের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন কিংবা পড়াশোনা শেষে চাকরি পাওয়া নয়। প্রকৃত শিক্ষা মানুষের চিন্তাশক্তি বিকশিত করে এবং সত্য-মিথ্যা, তথ্য ও পক্ষপাতের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে সহায়তা করে।
তিনি বলেন, অর্জিত জ্ঞান মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে কি না, তা নির্ভর করে ব্যক্তির চিন্তাভাবনা ও নৈতিক অবস্থানের ওপর। তাই শিক্ষার্থীদের শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে।
এ্যানি বলেন, ‘শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের খুব বেশি প্রয়োজন প্রকৃত শিক্ষা। আমরা যদি সেইদিকে বেশি নজর না দিই তাহলে শুধুমাত্র শিক্ষা অনেক সময় আমাদের জন্য বিপদজ্জনক হতে পারে।’
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষাজীবন থেকেই মানবকল্যাণ ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি দায়িত্বশীল আচরণ ও নৈতিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে হবে।
পাঠ্যক্রমের বাইরের কার্যক্রম এবং খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি সহশিক্ষা কার্যক্রম ও ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হন, তাহলে শিক্ষা সমাজব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারবে না।
সমাজকে এগিয়ে নিতে নৈতিকতা, সামাজিক অবদান এবং ব্যক্তিগত দক্ষতা বিকাশের ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী।
তিনি বলেন, আগের প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের হাতেকলমে শিক্ষা, প্রাইভেট পড়া ও কোচিংয়ের ওপর বেশি নির্ভর করতে হতো। তখন স্মার্টফোন কিংবা বর্তমান সময়ের মতো প্রযুক্তিগত সুবিধা ছিল না। তবে এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কারণে শিক্ষার্থীদের সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এআই প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে এ্যানি বলেন, ‘আপনি এআইকে কিভাবে কাজে লাগাবেন, এটা নির্ভর করবে আপনার নিজস্ব দক্ষতা এবং উদ্দেশ্যের ওপর।’
তিনি জানান, বর্তমানে শিক্ষার্থীরা এআইয়ের মাধ্যমে পড়াশোনায় সহযোগিতা নিতে পারেন। ফলে প্রাইভেট বা কোচিংয়ের বাইরে থেকেও বিভিন্ন বিষয়ে শেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার ও ব্যক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের পথে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ইউসুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান, পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী হ্যাপিসহ অন্যরা।
মন্তব্যসমূহ