নরসিংদীর রায়পুরায় দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে উজ্জ্বল কুমার শীল (৩৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুই অটোরিকশার চালকসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে নরসিংদী-রায়পুরা আঞ্চলিক সড়কের আমিরগঞ্জ ও খানাবাড়ির মধ্যবর্তী এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত উজ্জ্বল কুমার শীল রায়পুরা উপজেলার মেথিকান্দা এলাকার নারায়ণ শীলের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজ্জ্বল কয়েকজন স্বজনকে সঙ্গে নিয়ে নরসিংদীর আরশীনগর থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রায়পুরার উদ্দেশে রওনা হন। একই সময়ে রায়পুরা বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী নিয়ে আরেকটি অটোরিকশা নরসিংদীর দিকে যাচ্ছিল।
পথে আমিরগঞ্জ ও খানাবাড়ির মাঝামাঝি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশা দুটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় উভয় যানবাহন সড়কে উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুটি অটোরিকশা থেকে মোট ১২ জনকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই উজ্জ্বল কুমার শীলের মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন রায়পুরার চান্দেরকান্দি এলাকার অলি মিয়া (৪৫) ও গিয়াস উদ্দিন (৫৫), পূর্বপাড়া এলাকার শরীফ মিয়ার ছেলে রুহুল আমিন (৩০), নরসিংদী সদরের নির্মলের মেয়ে সুস্মিতা (১০), কেশব চন্দ্র শীলের মেয়ে সোনিয়া শীল (৩০) ও ছেলে প্রল্লাদ (১)।
এ ছাড়া আহত হয়েছেন রায়পুরা বাজারের ব্যবসায়ী মাইন উদ্দিন, তার মেয়ে লিপি (২৮), ছেলে আনিছ (৪) এবং পরিচয় শনাক্ত না হওয়া আরও একজন। আহতদের মধ্যে দুই অটোরিকশার চালকও রয়েছেন।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, দুর্ঘটনার পর উজ্জ্বল শীলকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। আহত ১১ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের অ্যাম্বুল্যান্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, নিহতের মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
মন্তব্যসমূহ