নদীভাঙন প্রতিরোধ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং নদ-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজশাহী ও নাটোর জেলার বিভিন্ন চলমান ও প্রস্তাবিত পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সফরের শুরুতে প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় যান। সেখানে ‘রাজশাহী ও নাটোর জেলার অন্তর্গত বারনই নদী পুনঃখনন, দূষণমুক্ত ও দখলমুক্তকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের এলাকা ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনের সময় প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা এবং নদীভাঙন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি।
এরপর রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভা এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙনপ্রবণ অংশ পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। সেখান থেকে নদী পার হয়ে চর আসারিয়াদহ ইউনিয়নে যান।
এ সময় নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা জনপদ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের জানমাল রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রাজশাহী সফরের অংশ হিসেবে শহরের আই-বাঁধ, টি-বাঁধ এবং শহর রক্ষা বাঁধ এলাকাও পরিদর্শন করেন ফরহাদ হোসেন আজাদ।
পরে দুপুরে নাটোরের উদ্দেশে রওনা হন প্রতিমন্ত্রী। সেখানে প্রস্তাবিত ‘বড়াল নদী অববাহিকায় পানিসম্পদ পুনর্বাসন (বড়াল নদী ড্রেজিং, নারদ নদ ও মুসা খাঁ নদী পুনঃখনন)’ প্রকল্পের নির্ধারিত এলাকা পরিদর্শন করেন।
নাটোরে প্রকল্পটির প্রস্তাবনা, পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য নেন তিনি।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদী, খাল ও জলাশয়ের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বজায় রাখা এবং নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার সমস্যা মোকাবিলায় সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, পানিসম্পদের যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি, পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রার সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নে জনস্বার্থ, কারিগরি সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সুফলকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. শফিকুল হক মিলন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন এবং রাজশাহীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী আবুল হোসেন তুহিনসহ অন্যরা।
মন্তব্যসমূহ