ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে ইরানকে ঘিরে নতুন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে শুরুতেই তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন। কারণ, হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা দুই নেতার মধ্যে যুদ্ধ পুনরায় শুরুর বিষয়ে আলোচনা হওয়ার খবরকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন ট্রাম্প।
অর্থাৎ, একদিকে নতুন সামরিক অভিযানের আলোচনা নিয়ে প্রতিবেদন, অন্যদিকে সরাসরি অস্বীকার। ফলে ইরান নিয়ে ওয়াশিংটনের প্রকৃত সিদ্ধান্ত এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের এমন তথ্য দিয়েছেন যে, ইরান আবারও তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।
ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন স্থাপনা ব্যবহার করছে কি না, সেটিও আলোচনায় এসেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্প অবস্থান পরিবর্তন করলে যাতে দ্রুত সামরিক অভিযান শুরু করা যায়, সে প্রস্তুতিও রাখা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এখানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ট্রাম্প নতুন হামলার বিষয়ে নেতানিয়াহুকে কোনো স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত নয়। বরং একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প এখনো কোনো চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দেননি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে নতুন হামলার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং সেন্ট্রাল কমান্ডের নেতৃত্ব তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয়। বিপরীতে ট্রাম্পের বেশিরভাগ উপদেষ্টা নতুন সামরিক অভিযান না চালিয়ে নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার পক্ষে।
এর মধ্যে ইসরায়েলের নিজস্ব নির্বাচনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইসরায়েলের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির মার্কিন জয়েন্ট চিফসের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনকে জানিয়েছেন, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি নির্বাচন পিছিয়ে দিতে হতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ পাল্টা প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। ফলে একদিকে চলছে কূটনৈতিক যোগাযোগ, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতির খবর। এই দুই বিপরীতমুখী তৎপরতাই ইরান পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন একটাই, ট্রাম্প কি সত্যিই নতুন করে ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেবেন, নাকি সামরিক চাপকে আলোচনার হাতিয়ার হিসেবেই ব্যবহার করবেন?
মন্তব্যসমূহ