ঢাকা    শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির লেনদেন

নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির লেনদেন
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ ও সর্বজনীন করতে আগামী নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে টাকা পাঠানোর সুবিধা চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ ব্যবস্থায় রিকশাচালক, মুচিসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের নিজস্ব কিউআর কোড থাকবে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে টিউশন ফি পরিশোধ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

ওয়ান ব্যাংক পিএলসি ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।

গভর্নর জানান, বাংলা কিউআর ব্যবস্থার সম্প্রসারণে চারটি ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর শেষ ধাপ আগামী নভেম্বরে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তখন একজন ব্যক্তি অন্য যেকোনো ব্যক্তির কিউআর কোড স্ক্যান করে সরাসরি টাকা পাঠাতে পারবেন।

বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেন বাড়াতে গত ১ অক্টোবর থেকে প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তঃসংযোগভিত্তিক লেনদেনে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান চার্জ শূন্য করা হয়েছে।

গভর্নরের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই হাজার, পাঁচ হাজার, এক লাখ কিংবা দুই লাখ টাকা—লেনদেনের পরিমাণ যা-ই হোক, এ ব্যবস্থায় আন্তঃপ্রতিষ্ঠান লেনদেনের জন্য কোনো চার্জ দিতে হবে না।

বাংলা কিউআর বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে মোস্তাকুর রহমান জানান, গত ১ জুলাই থেকে প্রথম ধাপে সবার জন্য বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করা হয়। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ব্যবস্থাটির কারিগরি সক্ষমতা ও কার্যক্ষমতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়।

তিনি বলেন, আন্তঃসংযোগভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক লেনদেন পরিচালনার সক্ষমতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

এ প্রসঙ্গে গভর্নর জানান, মাস্টারকার্ডের ব্যবস্থায় প্রতি সেকেন্ডে এক হাজারটি লেনদেন সম্পন্ন করার সক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে দেশের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রতি সেকেন্ডে ৩০০টি লেনদেনের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছিল।

বাংলা কিউআর ব্যবস্থার সঙ্গে প্রায় ১০০টি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতগুলো প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে আন্তঃসংযোগের আওতায় আনার কারণে শুরুতে ব্যবস্থাটির সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ ছিল।

তবে প্রায় দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে কার্যক্ষমতার ক্ষেত্রে সন্তোষজনক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলে জানান গভর্নর।

বাংলা কিউআরে লেনদেনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, জুনের প্রথম সপ্তাহে এ ব্যবস্থায় দৈনিক গড় লেনদেন ছিল প্রায় ৩৭ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে তা বেড়ে প্রায় ১৮০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

অর্থাৎ, এ সময়ে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে দৈনিক গড় লেনদেন চার গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে এই প্রবৃদ্ধিকে এখনই চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখছেন না গভর্নর। তার মতে, দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় তিন হাজার কোটি টাকায় পৌঁছালে বাংলা কিউআর ব্যবস্থা একটি যুক্তিসংগত অবস্থানে এসেছে বলে বিবেচনা করা যাবে।

দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও বাংলা কিউআর নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে জানান মোস্তাকুর রহমান।

তিনি উল্লেখ করেন, গুগল, মেটা ও হুয়াওয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনার সময়ও বাংলা কিউআর ব্যবস্থার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে।

গভর্নরের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিকল্পিত চার ধাপের বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশাজীবী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আরও সহজে ডিজিটাল লেনদেনে অংশ নিতে পারবেন।

ট্যাগ : বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলা কিউআর

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির লেনদেন

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ ও সর্বজনীন করতে আগামী নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে টাকা পাঠানোর সুবিধা চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ ব্যবস্থায় রিকশাচালক, মুচিসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের নিজস্ব কিউআর কোড থাকবে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে টিউশন ফি পরিশোধ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

ওয়ান ব্যাংক পিএলসি ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।

গভর্নর জানান, বাংলা কিউআর ব্যবস্থার সম্প্রসারণে চারটি ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর শেষ ধাপ আগামী নভেম্বরে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তখন একজন ব্যক্তি অন্য যেকোনো ব্যক্তির কিউআর কোড স্ক্যান করে সরাসরি টাকা পাঠাতে পারবেন।

বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেন বাড়াতে গত ১ অক্টোবর থেকে প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তঃসংযোগভিত্তিক লেনদেনে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান চার্জ শূন্য করা হয়েছে।

গভর্নরের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই হাজার, পাঁচ হাজার, এক লাখ কিংবা দুই লাখ টাকা—লেনদেনের পরিমাণ যা-ই হোক, এ ব্যবস্থায় আন্তঃপ্রতিষ্ঠান লেনদেনের জন্য কোনো চার্জ দিতে হবে না।

বাংলা কিউআর বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে মোস্তাকুর রহমান জানান, গত ১ জুলাই থেকে প্রথম ধাপে সবার জন্য বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করা হয়। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ব্যবস্থাটির কারিগরি সক্ষমতা ও কার্যক্ষমতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়।

তিনি বলেন, আন্তঃসংযোগভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক লেনদেন পরিচালনার সক্ষমতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

এ প্রসঙ্গে গভর্নর জানান, মাস্টারকার্ডের ব্যবস্থায় প্রতি সেকেন্ডে এক হাজারটি লেনদেন সম্পন্ন করার সক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে দেশের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রতি সেকেন্ডে ৩০০টি লেনদেনের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছিল।

বাংলা কিউআর ব্যবস্থার সঙ্গে প্রায় ১০০টি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতগুলো প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে আন্তঃসংযোগের আওতায় আনার কারণে শুরুতে ব্যবস্থাটির সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ ছিল।

তবে প্রায় দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে কার্যক্ষমতার ক্ষেত্রে সন্তোষজনক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলে জানান গভর্নর।

বাংলা কিউআরে লেনদেনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, জুনের প্রথম সপ্তাহে এ ব্যবস্থায় দৈনিক গড় লেনদেন ছিল প্রায় ৩৭ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে তা বেড়ে প্রায় ১৮০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

অর্থাৎ, এ সময়ে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে দৈনিক গড় লেনদেন চার গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে এই প্রবৃদ্ধিকে এখনই চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখছেন না গভর্নর। তার মতে, দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় তিন হাজার কোটি টাকায় পৌঁছালে বাংলা কিউআর ব্যবস্থা একটি যুক্তিসংগত অবস্থানে এসেছে বলে বিবেচনা করা যাবে।

দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও বাংলা কিউআর নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে জানান মোস্তাকুর রহমান।

তিনি উল্লেখ করেন, গুগল, মেটা ও হুয়াওয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনার সময়ও বাংলা কিউআর ব্যবস্থার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে।

গভর্নরের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিকল্পিত চার ধাপের বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশাজীবী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আরও সহজে ডিজিটাল লেনদেনে অংশ নিতে পারবেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ