কুমিল্লায় ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে হত্যার পর পাশের একটি মসজিদের পুকুরে গোসল করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া। পরে নিহতের মোবাইল ফোন লুকিয়ে চট্টগ্রামে পালিয়ে যান তিনি। পুলিশের তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা কাউন্টারে পৌঁছায় তাজমিন। সেখান থেকে নগরের রেসকোর্স এলাকায় নিজের ভাড়া বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে সুমন মিয়ার অটোরিকশায় ওঠে সে। গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ৩০০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়।
যাত্রাপথে তাজমিন চালককে দিয়ে কলা ও রুটি কিনিয়ে নেয়। তবে তাকে দ্রুত বাসায় পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও সুমন নির্ধারিত গন্তব্যের পরিবর্তে চাঁদপুর সড়কের দিকে অটোরিকশা চালিয়ে যান।
এরপর লাকসামের বিজরা বাজার হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ঘুরে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকায় পৌঁছান তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, জগতপুরে পৌঁছে সুমন অটোরিকশাটি বন্ধ করে দেন। অপরিচিত স্থানে নিয়ে আসার বিষয়টি বুঝতে পেরে তাজমিন আতঙ্কিত হয়ে গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় সুমন তাকে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। বাধা দেওয়ায় সঙ্গে থাকা গামছা দিয়ে তাজমিনের গলা পেঁচিয়ে ধরেন তিনি। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কিশোরী দুর্বল হয়ে পড়লে তাকে পাশের একটি ধানক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে তাজমিনকে উপুড় করে ফেলে পা দিয়ে মাথা চেপে ধরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের পর তাজমিনের হ্যান্ডব্যাগ থেকে আইফোনটি নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেন সুমন। নিজের অটোরিকশা ঘটনাস্থলে রেখে কাছিকাটা মসজিদের সামনে যান তিনি।
পুলিশ জানায়, মসজিদের পুকুরে গোসল করার পর অন্য একটি ভাড়ায় চালিত অটোরিকশায় বাখরাবাদ এলাকায় পৌঁছান সুমন। সেখানে একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গলে তাজমিনের আইফোন লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে পালিয়ে যান।
ঘটনার তদন্তে নেমে শুক্রবার চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান থেকে বাখরাবাদ এলাকার পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে নিহত স্কুলছাত্রীর আইফোন উদ্ধার করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ উদ্ধারের সময় আশপাশের কয়েকটি ধানক্ষেতে ধানগাছ এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পায় পুলিশ। ঘটনাস্থলের কাছেই একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশাও পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
মন্তব্যসমূহ