ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও আন্দোলনকারীকে আটক করেছে পুলিশ। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান থেকে ককোরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) তিন শীর্ষ নেতাকে আটকের পাশাপাশি যন্তর মন্তর এলাকায় বামপন্থি নেতাদেরও পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর দক্ষিণ-পশ্চিম জেলা পুলিশের একটি দল দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালায়। এ সময় সিজিপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়। তাদের আটকের বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
বিমানের ভেতর থেকে আটকের সময় নেতাদের ‘ভারত মাতা কি জয়’ ও ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে শোনা যায়।
অন্যদিকে যন্তর মন্তর এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নসহ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী), সিপিআই(এম)-এর কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা পুলিশি হেফাজতে গেছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
আটক নেতাদের মধ্যে এমএ বেবি, এমভি গোবিন্দন মাস্টার, কেকে শৈলজা ও বৃন্দা কারাটের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। একই এলাকায় কয়েকজন স্বাধীন সাংবাদিক ও আন্দোলনকারীকেও আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ককোরোচ জনতা পার্টি। সংগঠনটির অভিযোগ, দিল্লিতে বিমান অবতরণের পরপরই নেতাদের আটক করা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করার পরিকল্পিত উদ্যোগ।
দলটির দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ নাগরিকদের স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকারের পরিপন্থী। একই সঙ্গে আটক নেতাদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
এদিকে রাজনৈতিক নেতাদের আটকের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছেন আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে জরুরি অবস্থার চেয়েও ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেন। কেজরিওয়ালের অভিযোগ, ভারতে একনায়কতান্ত্রিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
মন্তব্যসমূহ