ঢাকা    বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

একনেকে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

একনেকে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১০টি নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন পায়।

অনুমোদিত প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এ ছাড়া প্রকল্প ঋণ থেকে ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা রয়েছে।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনে। এবার প্রকল্পটির ব্যয় আরও ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৭ হাজার ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা করা হয়েছে। এর মূল ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৪৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনে তা ৪ হাজার ৪১৮ কোটি ৫০ লাখ এবং দ্বিতীয় সংশোধনে ৫ হাজার ৭২৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রকল্পটির পুরো অর্থ সরকার বহন করবে।

সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ৩ হাজার ৭৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নের প্রকল্পটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য ২ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এতে সরকারের অর্থায়ন ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ এবং প্রকল্প ঋণ ১ হাজার ৯৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণেও অনুমোদন দিয়েছে একনেক। প্রকল্পটির ব্যয় ২ হাজার ৪৯৮ কোটি ৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রকল্প ঋণ ও অনুদান ২ হাজার ১২৩ কোটি ৩৬ লাখ ৭৪ হাজার এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৭৪ কোটি ৭১ লাখ ১৯ হাজার টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনে রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণে ২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থায়ন থাকবে ২ হাজার ১৯৮ কোটি ৯৪ লাখ ১৫ হাজার এবং সিটি করপোরেশন দেবে ৩৮৮ কোটি ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮ ওয়ার্ডে সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নে ব্যয় হবে ৭৮৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ৫৪৯ কোটি ১৪ লাখ ৯০ হাজার এবং ডিএসসিসি ২৩৫ কোটি ৩৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর।

রংপুর সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৬০২ কোটি ৭৯ লাখ ৩ হাজার টাকার আরেকটি নতুন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এতে সরকারি অর্থায়ন ১ হাজার ১২১ কোটি ৯৫ লাখ ৩২ হাজার এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৪৮০ কোটি ৮৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা। প্রকল্পটি ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

একই সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসনে নেওয়া হয়েছে ২১০ কোটি ৪৯ লাখ ২৮ হাজার টাকার প্রকল্প। এতে সরকার দেবে ১৬৮ কোটি ৩৯ লাখ ৪২ হাজার এবং সিটি করপোরেশন ৪২ কোটি ৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনও অনুমোদিত হয়েছে। এতে ৭৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ২ হাজার ১৬৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি অর্থায়ন থাকবে ২ হাজার ৬০ কোটি ৪৪ লাখ এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১০৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

ফ্রান্সের প্যারিসে কেনা চ্যান্সারি ভবন ব্যবহারোপযোগী করতে সংস্কার ও আধুনিকায়নে ২১১ কোটি ৩০ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। পুরো অর্থ সরকার দেবে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

পঞ্চগড়ের ভজনপুর থেকে পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণে ২০৩ কোটি ৫২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ব্যয় হবে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নের প্রকল্পটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে।

থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনে আরও ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। এতে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৯২৬ কোটি ১২ লাখ ৩২ হাজার টাকা। মূল প্রকল্পের ব্যয় ছিল ৪৬৯ কোটি ৫৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। প্রথম সংশোধনে তা ৮৫৩ কোটি ১২ লাখ এবং দ্বিতীয় সংশোধনে ৮৮৯ কোটি ৬২ লাখ ৩২ হাজার টাকা হয়েছিল। এবার প্রকল্পটির মেয়াদ চতুর্থবারের মতো বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরিতে ১৮৪ কোটি ৮৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকার নতুন প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। পুরো অর্থ সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হবে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া পরিকল্পনা মন্ত্রীর মাধ্যমে ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের একটি প্রকল্পের বিষয়ে একনেককে অবহিত করা হয়েছে। এর আওতায় রয়েছে জয়পুরহাট জেলার নন্দাহার, হারাবতী নদী, নুনগোলা খাল ও খাড়োয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্প।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ : অর্থনীতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একনেক

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


একনেকে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১০টি নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন পায়।

অনুমোদিত প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এ ছাড়া প্রকল্প ঋণ থেকে ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা রয়েছে।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনে। এবার প্রকল্পটির ব্যয় আরও ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৭ হাজার ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা করা হয়েছে। এর মূল ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৪৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনে তা ৪ হাজার ৪১৮ কোটি ৫০ লাখ এবং দ্বিতীয় সংশোধনে ৫ হাজার ৭২৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রকল্পটির পুরো অর্থ সরকার বহন করবে।

সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ৩ হাজার ৭৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নের প্রকল্পটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য ২ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এতে সরকারের অর্থায়ন ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ এবং প্রকল্প ঋণ ১ হাজার ৯৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণেও অনুমোদন দিয়েছে একনেক। প্রকল্পটির ব্যয় ২ হাজার ৪৯৮ কোটি ৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রকল্প ঋণ ও অনুদান ২ হাজার ১২৩ কোটি ৩৬ লাখ ৭৪ হাজার এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৭৪ কোটি ৭১ লাখ ১৯ হাজার টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনে রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণে ২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থায়ন থাকবে ২ হাজার ১৯৮ কোটি ৯৪ লাখ ১৫ হাজার এবং সিটি করপোরেশন দেবে ৩৮৮ কোটি ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮ ওয়ার্ডে সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নে ব্যয় হবে ৭৮৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ৫৪৯ কোটি ১৪ লাখ ৯০ হাজার এবং ডিএসসিসি ২৩৫ কোটি ৩৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর।

রংপুর সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৬০২ কোটি ৭৯ লাখ ৩ হাজার টাকার আরেকটি নতুন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এতে সরকারি অর্থায়ন ১ হাজার ১২১ কোটি ৯৫ লাখ ৩২ হাজার এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৪৮০ কোটি ৮৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা। প্রকল্পটি ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

একই সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসনে নেওয়া হয়েছে ২১০ কোটি ৪৯ লাখ ২৮ হাজার টাকার প্রকল্প। এতে সরকার দেবে ১৬৮ কোটি ৩৯ লাখ ৪২ হাজার এবং সিটি করপোরেশন ৪২ কোটি ৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনও অনুমোদিত হয়েছে। এতে ৭৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ২ হাজার ১৬৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি অর্থায়ন থাকবে ২ হাজার ৬০ কোটি ৪৪ লাখ এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১০৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

ফ্রান্সের প্যারিসে কেনা চ্যান্সারি ভবন ব্যবহারোপযোগী করতে সংস্কার ও আধুনিকায়নে ২১১ কোটি ৩০ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। পুরো অর্থ সরকার দেবে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

পঞ্চগড়ের ভজনপুর থেকে পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণে ২০৩ কোটি ৫২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ব্যয় হবে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নের প্রকল্পটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে।

থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনে আরও ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। এতে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৯২৬ কোটি ১২ লাখ ৩২ হাজার টাকা। মূল প্রকল্পের ব্যয় ছিল ৪৬৯ কোটি ৫৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। প্রথম সংশোধনে তা ৮৫৩ কোটি ১২ লাখ এবং দ্বিতীয় সংশোধনে ৮৮৯ কোটি ৬২ লাখ ৩২ হাজার টাকা হয়েছিল। এবার প্রকল্পটির মেয়াদ চতুর্থবারের মতো বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরিতে ১৮৪ কোটি ৮৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকার নতুন প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। পুরো অর্থ সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হবে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া পরিকল্পনা মন্ত্রীর মাধ্যমে ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের একটি প্রকল্পের বিষয়ে একনেককে অবহিত করা হয়েছে। এর আওতায় রয়েছে জয়পুরহাট জেলার নন্দাহার, হারাবতী নদী, নুনগোলা খাল ও খাড়োয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্প।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ