পাকিস্তানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে। দেশটিতে বিদ্যুতের সামগ্রিক ঘাটতি ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাওয়ায় শহর ও গ্রামাঞ্চলে বেড়েছে লোডশেডিং। এর মধ্যে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্নের কারণে ডিজেলের সংকটও দেখা দিয়েছে।
দেশটির সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজের বরাতে এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই) জানিয়েছে, কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট বন্ধ থাকা এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
বিদ্যুৎ ঘাটতি বাড়ার প্রভাব পড়েছে সারা দেশের বিতরণ ব্যবস্থায়। বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলো (ডিসকো) লোডশেডিং বাড়িয়েছে। শহর ও গ্রাম—দুই এলাকার গ্রাহকদেরই দিনে তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে। কিছু এলাকায় আকস্মিকভাবে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রাখার সময়ও বেড়েছে।
রাজধানী লাহোরে পরিস্থিতি সবচেয়ে সংকটপূর্ণ বলে জানা গেছে। শহরটির বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে জ্বালানি সংকট। গ্যাস সরবরাহে বিঘ্নের কারণে লাহোরে ডিজেলের সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্র। এতে শহরটির সামগ্রিক জ্বালানি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এদিকে ফিডারের সামগ্রিক কারিগরি ও বাণিজ্যিক (এটিসি) ক্ষতির ভিত্তিতে লোডশেডিং করার অভিযোগে কে-ইলেকট্রিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে ন্যাশনাল ইলেকট্রিক পাওয়ার রেগুলেটরি অথরিটি (নেপরা)।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এ ধরনের লোডশেডিংকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে এটিসি ক্ষতির ভিত্তিতে অনির্ধারিত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধকারী গ্রাহকদের ফিডারে ক্ষতির হার বেশি থাকার কারণে বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না বলেও জানিয়েছে নেপরা।
নেপরার বক্তব্য, বিদ্যুৎ চুরি বা অন্য গ্রাহকদের অনিয়মের কারণে নিয়মিত বিল পরিশোধকারীদের শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। বিদ্যুৎ চুরিতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে পুরো ফিডারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পথ থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি।
Source: এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই)।
মন্তব্যসমূহ